যে সমীকরণে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০১৩ সালের পর এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে টানা দুটি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখালো বাংলাদেশ ফুটবল দল। ভুটানের পর পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শেষ ম্যাচে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। গ্রুপের চার দলের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই জিতেছে ২ ম্যাচ। অন্যদের মধ্যে পাকিস্তান এবং নেপাল জিতেছে একটি করে। ভুটান হেরেছে ২টিতেই। সে হিসেবে গ্রুপ টেবিলে প্রাধান্য বাংলাদেশেরই। ৬ পয়েন্ট বাংলাদেশের। ৩ পয়েন্ট করে পাকিস্তান এবং নেপালের।

তবুও, শেষ মুহূর্তে এসে হোঁচট খেতে পারে বাংলাদেশ। সেমির স্বপ্নে কাঁটা বিছিয়ে দিতে পারে পাকিস্তান কিংবা নেপাল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আজ সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেপালের। বিকাল ৪টায় ইতোমধ্যেই ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান।

শেষ ম্যাচের হিসাব-নিকাশের জটিল সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য হতে পারে আশির্বাদ কিংবা বিপদের কারণও। নেপালের বিপক্ষে যদি জিততে পারে বাংলাদেশ, তাহলে কোনো কথাই নেই। কোনো সমীকরণেরও প্রয়োজন হবে না। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে উঠে যাবে জামাল ভুইয়াঁ-তপু বর্মণরা। সমীকরণের প্রয়োজন হবে না, নেপালের সঙ্গে ম্যাচটি যদি ড্র হয়। তাতেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়নই হবে বাংলাদেশ।

অর্থ্যাৎ ম্যাচে জয় কিংবা ড্র- যে কোনোটি হওয়া মানেই হচ্ছে- বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপসহ। কিন্তু নেপালের সঙ্গে জয় কিংবা ড্র ভিন্ন অন্য ফল- তথা হার ডেঞ্জার জোনে ফেলে দিতে পারে স্বাগতিকদের। সে ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা থাকবে, তবে তখন গোল ব্যবধানের হিসাব নিকাশ চলে আসবে।

অন্য সম্ভাবনাও ছিল। ভুটানের কাছে যদি হেরে যায় পাকিস্তান। তাহলে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যেতো। কিন্তু বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া ম্যাচটিতে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়েছিল পাকিস্তান। এ কারণেই হিসাব-নিকাশটা জটিল আকার ধারণ করেছে।

পাকিস্তান যেহেতু ভুটানের বিপক্ষে জিতেই যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের সামনে জয় কিংবা ড্র ছাড়া অন্য কোনো সমীকরণে যাওয়াটাই ঠিক জবে না। পাকিস্তান ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর, যদি এই ব্যবধানেই জিতে যায়, আর বাংলাদেশ যদি ২-০ গোলে নেপালের কাছে হেরে যায় তাহলে কপাল পুড়বে জেমি ডে’র শিষ্যদেরই।

পাকিস্তান যদি ৩-০ গোলের ব্যবধানে জিতে যায়, তখন বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারলেও বিপদ বেড়ে যাবে। তখন নেপাল আর পাকিস্তানই উঠে যাবে শেষ চারে। আবার যদি ভুটান কোনোভাবে একটি গোল অন্তত প্রবেশ করাতে পারে পাকিস্তানের জালে, তখন আবার তাদের গোল ব্যবধান কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে লাভ হবে বাংলাদেরই।

মোট কথা, নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে পাকিস্তান-ভুটান ম্যাচটি যেমন খুব গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশকে কোনো সমীকরণের জামেলা এড়াতে হলে জয় কিংবা ড্র করাটা খুব জরুরী। যদিও মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ কোচ জেমি যে এসব হিসাব-নিকাশ কিংবা সমীকরণ নিয়ে ভাবতে রাজি নন। তিনি আগেরদিনই সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের এ ম্যাচটা ভালো খেলে জিততে হবে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য। জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। আমাদের নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। নেপাল অনেক ভালো দল। ভুটানের বিরুদ্ধে ৪ গোলে জিতে সেটা প্রমাণ করেছে। আমরা জিতেই সেমিফাইনালে উঠতে চাই। আমার প্রত্যাশা, ছেলেরা ভালো খেলা ও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে।’

আইএইচএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :