কষ্টার্জিত জয়ে ৩ পয়েন্ট পেলো রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:২৮ এএম, ০১ অক্টোবর ২০২০

নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচটি চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বারবার চেপে ধরেছে প্রতিপক্ষ রিয়াল ভায়োদলিদকে। কিন্তু গত দুই মৌসুম ধরে চলা ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পায়নি স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। একের পর এক গোল মিসের মহড়ায় জেগেছিল পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা।

তবে শেষতক সৌভাগ্যবশত পাওয়া গোলে পূর্ণাঙ্গ ৩ পয়েন্টই পেয়েছে রিয়াল। যে জয়টি হতে পারতো ভায়োদলিদকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বড় ব্যবধানের, সে জয়ের পাশে লেগে গেল কষ্টার্জিত জয়ের তকমা। ভায়োদলিদ ডিফেন্ডারের ভুলেই মূলত তিন পয়েন্ট পাওয়া জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

এ জয়ের ফলে ঘরের মাঠে নিজেদের অপরাজিত যাত্রা অব্যাহত রাখল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সবশেষ ২০ ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি তারা। চলতি লিগে ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্র'তে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে অবস্থান করছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শীর্ষে থাকা গেটাফে কিংবা দুই নম্বরে থাকা ভ্যালেন্সিয়ার সংগ্রহও সমান ৭ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রিয়ালের ওপরে অবস্থান করছে তারা। অন্যদিকে চার ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলে ঘোরাফেরা করছে রিয়াল ভায়োদলিদ।

বুধবার রাতের ম্যাচটিতে দশম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। সার্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুকা জোভিচের পাস ধরে জোরালো শট নেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো। সেটি ঠেকিয়ে দেন ভায়োদলিদ গোলরক্ষক রবার্তো। ফিরতি বলে ফের জালের উদ্দেশ্যে শট নেন ফেডে ভালভার্দে, এবার কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান রবার্তো।

দশ মিনিট থেকে শুরু হওয়া আক্রমণের ধারা চলেছে পুরো ম্যাচেই। ম্যাচের ১৭ মিনিটে জোভিচকে হতাশ করেন ভায়োদলিদ গোলরক্ষক। মিনিট দশেক পর জালের খুব কাছ থেকেও বাইরে মেরে দেন এ সার্বিয়ান ফরোয়ার্ড। ফলে বারবার গোল মিসের হতাশায় পুড়তে হয় রিয়াল সমর্থকদের।

দ্বিতীয়ার্ধে ফের দৃশ্যপটে জোভিচ ও রবার্তো। জোভিচের নিখুঁত এক হেডার অসামান্য ক্ষিপ্রতায় ফেরান ভায়োদলিদ গোলরক্ষক। ফিরতি বলে শট নিয়েছিলেন ক্যাসেমিরো, এটি প্রতিহত হয় ক্রসবারে লেগে। ফলে জোরালো আক্রমণ করেও গোলশূন্যতায় ভুগতে হয় স্বাগতিকদের। এর খানিক পর রিয়াল রক্ষণে ভয় ধরায় ভায়োদলিদ। যদিও থিবো কর্তোয়ার দৃঢ়তায় কোনো বিপদ হয়নি।

ম্যাচের ৫৮ মিনিটের সময় ভাগ্য বদলের আশায় তিন খেলোয়াড় বদল করেন রিয়াল কোচ জিদান। জোভিচ, ইসকো ও ওদ্রিওলার বদলে মাঠে নামান ভিনিসিয়াস জুনিয়র, অ্যাসেনসিও এবং মায়োরালকে। ভিনিসিয়াসকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে যেনো ভাগ্যও পেয়ে যায় রিয়াল। কেননা তার পা থেকেই আসে সৌভাগ্যসূচক গোলটি।

মাঠে নামার মিনিট সাতেকের মাথায় অফসাইডে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিনিসিয়াস। নিজ দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বল পেলে সঙ্গে সঙ্গে বেজে উঠত অফসাইডের বাঁশি। কিন্তু ভুল করে তাকে বল বাড়িয়ে দেন ভায়োদলিদ ডিফেন্ডার। সেটি ধরে রবার্তোকে ফাঁকি দিতে কোনো ভুল করেননি এ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

ভিনিসিয়াসের এই গোলের পরও বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু কখনও করিম বেনজেমা, কখনও লুকা মদ্রিচ, আবার কখনও জয়ের নায়ক ভিনিসিয়াস নিজেই দলকে ডোবান গোল মিসের হতাশায়। ফলে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ।

এসএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]