ওয়ানডের ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে আসার বড় সুযোগ


প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৭
ওয়ানডের ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে আসার বড় সুযোগ

টি-টোয়েন্টি যে কারও খেলা। যে কেউ জিততে পারে। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে, নেপিয়ারের এই ভেনুতে খেলতে নামার আগে একটু ব্রেক পেয়েছে বাংলাদেশ। কারণ, শেষ ওয়ানডে আর এই টি-টোয়েন্টির মাঝে নিজেদের প্রস্তুত করে নেয়ার সময় পেয়েছে ক্রিকেটাররা। এছাড়া বাংলাদেশের জন্য এখন টি-টোয়েন্টি একটা সাধারণ খেলা। কারণ, দেশের মাটিকে একমাস টি-টোয়েন্টি খেলেছে তারা। এছাড়া সিডনিতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে।

সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের এই ফরম্যাটে ভালো করা উচিৎ। খেলোয়াড়রা ভালো ফর্মে আছে। যদিও ওয়ানডেতে আমরা তিনটা ম্যাচ হেরে বসে আছি। ওটা থেকে আমাদেরকে ঝেড়ে বের হয়ে আসার সবচেয়ে সহজ সুযোগ হচ্ছে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

কেননা, যদি টেস্ট ম্যাচ খেলতে হতো এখন, তাহলে আরেকটা বিপদের ভেতর দিয়ে যেতে হতো। এর চেয়ে ভালো হলো, সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে খেলে আমরা নিজেদের আগের ব্যর্থতাকে ঢেকে দিতে পারবো।

এই ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাংলাদেশ কী দল নিয়ে মাঠে নামছে। যেহেতু এটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট। এখানে অবশ্যই ৫টা বোলার লাগবে। একই সঙ্গে এক্সট্রা কয়েকজন বহুমুখি প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামা উচিৎ। যেমন মিরাজ। বোলিং করতে পারে, ব্যাটিং করতে পারে। শুভাগত হোমকে যেহেতু দলে রাখা হয়েছে, তাকে একাদশে নেয়া হবে কি না জানি না। মাহমুদউল্লাহর বোলিংকে কাজে লাগানো উচিৎ। সাকিব তো জেনুইন অলরাউন্ডার, আছেই। মাশরাফি তো আছেই।

এখানে মোট ৫টা ক্লাস বোলার লাগবেই। শুধুমাত্র ৫টা বোলারের ওপর ভর করেও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে পারবেন না আপনি। যে কোনো সময় পেছনে পড়ে যেতে পারেন। এ জন্য বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী খেলোয়াড় দলে থাকলে ভালো হয়।

আরেকটা কথা হচ্ছে যে, নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের রেকর্ড এতটা ভালো না। টি-টোয়েন্টিতে কখনোই ওদের বিপক্ষে জিতিনি। সুতরাং, ২০১৭ সালের শুরুতে হয়তো তাদের বিপক্ষে বড় জয় দিয়েই আমাদের শুরু হতে পারে। এটা হতে পারে আামদের জন্য বছরের দারুণ এক সূচনা।

braverdrink

এ পর্যায়ে আমি আবারও কোচ প্রসঙ্গে আসি। কোচকে দেখছি, কিছু খেলোয়াড়ের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছে। একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেকজন খেলোয়াড়ের তুলনা করছে। এটা কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। একজন খেলোয়াড় মাঝে মাঝে রান করে, আরেকজনকে অনেক রান করে আসতে হবে, এ ধরনের নেতিবাচক কথা-বার্তা দলের মধ্যে প্রভাব ফেলে।

আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, বাংলাদেশ দলের ২২জন ক্রিকেটার যে এক সঙ্গে মুভ করতেছে, সঙ্গে ৭-৮ জন কর্মকর্তা রয়েছে। এই বিশাল বহর কিন্তু দলের স্পিরিটের জন্য ক্ষতিকর। এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সাধারণত ১৪ কিংবা ১৫ জনের দলের সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা যাক বা ম্যানেজমেন্ট থাকে। সেটা ঠিক আছে; কিন্তু এক দলে ২২জন খেলোয়াড় যখন থাকে তখন দলের মধ্যে অনেক কানা-ঘুষা হয়, অনেক ব্যাপার তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি ম্যানেজ করাও ম্যানেজারের জন্য অনেক কঠিন কাজ।

ম্যাচে জিততে হলে আমাদের প্রথম ৬ ওভার অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। ওই ৬ ওভারেই অনেক সময় খেলার ফল নির্ধারণ হয়ে যায় যে, কত রান হবে বা কয়টা উইকেট যাবে। ১৩-১৭ এই চারটা ওভার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় এখানেই টি-টোয়েন্টিতে মূল খেলাটা হয়। প্রথম ৬ ওভারের কথা কেন বললাম? এই ৬ ওভারে যদি আমরা বোলিং করি এবং এই পাওয়ার প্লেটা কাজে লাগাতে পারি এবং একই কাজ যদি ব্যাটিংয়ে করতে পারি, তাহলে কিন্তু ম্যাচে অনেকদুর এগিয়ে যেতে পারবো।

এই খেলাটায় সবচেয়ে বড় দুটা ফ্যাক্টর, যেগুলো কেউ খেয়াল করে না। একটা হচ্ছে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট, আরেকটা হচ্ছে ফিল্ডিং। এই দুই জায়গায় কিন্তু নিউজিল্যান্ড আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে।

এ ম্যাচটা যেহেতু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, সংক্ষিপ্ত সংস্করনের ম্যাচ। সুতরাং, এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। যে কেউ জিতে যেতে পারে। খেলাটা হবে বিকাল বেলায়। বিকাল বেলায় হওয়ার কারণে উইকেটা থাকবে একেবারেই শুকনা।

মাঠের আকৃতি কত আমি জানি না। তবে এই ম্যাচের উইকেটটা একেবারে শতভাগ ব্যাটিং উইকেট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় একটা এডভান্টেজ। আমরা যাওয়ার আগে যেভাবে ভেবেছিলাম যে স্যাঁতসেতে পরিবেশ হবে। উইকেটে বাউন্স থাকবে। পেস থাকবে, স্পিন থাকবে। পুরোটাই হবে বাংলাদেশের কন্ডিশনের বিপরীত। যদিও সেখানে ভিন্ন কন্ডিশনই পাওয়া গেছে।

তবে, পুরনো যা কিছু হয়েছে, সেগুলো ভুলে যেতে হবে। ২০১৭ নতুন শুরু করতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ, টি-টোয়েন্টি দিয়েই আমরা আবার জয়ের রাস্তায় ফিরে আসবো।

শুনেছি নেপিয়ারে আজ বৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অনুশীলন বিঘ্নিত হয়েছে। যদিও ম্যাচ মাঠে গড়াতে এখনও অনেক সময় বাকি। তবে এসব বৃষ্টি বিঘ্নিত পরিবেশে দলের মধ্যে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ সবচেয়ে কঠিন কাজ যেটা হয়, সেটা হলো খেলোয়াড়দের মনসংযোগ ধরে রাখা। ম্যাচটা হবে কী হবে না- এ ধরনের একটা শঙ্কার দোলাচলে থাকে তারা। এ বিষয়টা পারফরম্যান্সে একটা আঘাত করে।

আইএইচএস/আরআইপি