পাকিস্তানকে হারানোর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে!


প্রকাশিত: ১২:১২ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৫

ক্রিকেট খেলা আনন্দের, বিজয় আরো আনন্দের। তবে সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজয়। এই সেই পাকিস্তান, যারা আমাদের অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছে। ফলে পাকিস্তানকে হারানোর চাইতে আনন্দের আর কী হতে পারে!

পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ধবলধোলাইয় করায় উচ্ছ্বসিত ও আবেগ তাড়িত হয়ে বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক বিজয় সম্পর্কে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের টিমে সবাই বাঙালি, অথচ তাদের টিমে কোনো বাঙালি নাই। আগেও ছিলো না। আমাদের ছেলেদের সবার বয়স কম, সাইজেও ছোট। অথচ কী সুন্দর ক্রিকেট খেলা ওরা!

তিনি বলেন, খেলা দেখা আমার জন্যে অনেক কষ্টের। ইন্টারনেট দিয়ে দেখতে হয়। তবু বাংলাদেশ দলের খেলা হলে আমি দেখি। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা হওয়ায় আরো আগ্রহ নিয়ে দেখেছি।

২য় ম্যাচে জয়ের পরই আমরা ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল করেছি। মেয়েরাও মিছিল করেছে। বুধবার খেলার শেষের দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জয়ের দৃশ্যটা দেখতে পারিনি। তবে জয়ের খবর শুনে খুবই খুশি হয়েছি। এতো আনন্দ অনেকদিন পাইনি। যোগ করেন জাফর ইকবাল।

বৃহস্পতিবার খেলা চলাকালীন অনুভূতির কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমি ক্রিকেট বোদ্ধা নই। খেলার সময় আমার খুব টেনশন হয়। কিন্তু যখন একটা চার মারে, একটা ছয় মারে তখন আমার এতো আনন্দ হয় যে বলে বুঝানো যাবে না।

জাফর ইকবাল বলেন, বাংলাদেশ এখন অনেক পেশাদার দল হয়ে উঠছে। জয় শেষেও বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস নেই। উদযাপনে বাড়াবাড়ি নেই। যেনো এই জয় আমাদের প্রাপ্য ছিলো!

জনপ্রিয় এই লেখক বলেন, এক সময় বাইরের দেশের লোকেরা বাংলাদেশকে বলতো বাংলাডেশ। অথচ ক্রিকেটের কল্যাণে আজ সবাই আমাদের দেশকে বাংলাদেশ নামেই চেনে। আমরা যা পারিনি, ক্রিকেটাররা তা পেরেছে। তারা বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের সঠিক উচ্চারণ শিখিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের আবেগ। আমার বিশ্বাস, শুরু ক্রিকেট খেলা নয় অন্যান্য খেলায়ও আমরা ভালো করবো। জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চায়ও একদিন বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

একে/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।