ইংল্যান্ডই ফাইনালে ওঠার যোগ্য দল

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৬

দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ইংল্যান্ড। তারা যেভাবে খেলেছে তা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে আমি বলবো তারা কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা পেয়েছে। কারণ, দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় এর আগেও তারা দুটো ম্যাচ খেলেছে। ফলে এখানকার উইকেট, মাঠ এবং কন্ডিশনের সঙ্গে তারা নিজেদেরকে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে। এ দিক থেকে তারা অবশ্যই নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে।

নিউজিল্যান্ডকে দুর্ভাগা বলবো এ কারণে যে, তারা ৫টা ম্যাচ খেলেছে ৫টা গ্রাউন্ডে। একএক ম্যাচ একএক গ্রাউন্ডে গিয়ে খেলেছে। এ দিক থেকে তারা অনেক পিছিয়ে। তবুও এই ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে তাদের ব্যাটিং দেখে একটা সময় মনে হচ্ছিল তাদের রান ১৮০ থেকে ২০০’ও হয়ে যেতে পারে।

তবে পুরো টুর্নামেন্টেই তারা অল্প অল্প রান করে উঠে এসেছে। ১২৬ কিংবা ১৪২ এ ধরনের স্কোর করেছে তারা। তবুও তাদের বোলিং এতো অসাধারণ ছিল যে, এতো ছোট স্কোর করেও সহজে ম্যাচ জিতে গেছে তারা। কিন্তু ইংল্যান্ডের খারাপ-ভালো সব কিছুই এই চার ম্যাচে তারা পেয়েছে। নিউজিল্যান্ড কিন্তু এ ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।

সব সময়ই নিউজিল্যান্ড ওদের মতো টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে। আজও টস হারলেও নিজেদের মতোই শুরুতে ব্যাট করতে নামতে পেরেছিল তারা; কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি। এই মাঠে ১৭০ কিংবা ১৮০ প্লাস রান না হলে আসলে লড়াই করাটা কঠিন হয়ে যায়। কারণ, ইংল্যান্ডের প্রথম চারটা ব্যাটসম্যান প্রথম বল থেকেই মারমুখি ভঙিমায় অবতীর্ণ হয়। সুতরাং, তাদের সামনে ১৫৩ রান এটা কোনো বিষয়ই না।

মূলত তাই হয়েছে। ইংল্যান্ডের ওপেনাররা দারুণ স্টার্ট এনে দিয়েছেন। জেসন রয় তো এক কথা অসাধারণ খেলেছে। রান করেছে ৭৫ প্লাস। বাটলার শেষ দিকে নেমে প্রয়োজনীয় রানগুলো তুলে নিয়েছে খুব দ্রুততার সঙ্গে। মূলত প্রোটিয়াদের করা ২২৯ রানের জবাবে যেভাবে ব্যাট করেছে ইংল্যান্ড, তাতে করে যে অসাধারণ জয়টি পেযেছে তারা তাতে দারুণ আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে। ওরাও ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জনের দাবি রাখে।

braver
রান তাড়া করতে নেমে সবগুলো ম্যাচই জিতেছে ইংল্যান্ড। এবারের টুর্নামেন্টে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে সেরা দল। ওদের ব্যাটিংটাও শক্তিশালী। বোলিংয়ের তুলনায় ব্যাটিং অনেক ভালো করছে। মিডল অর্ডারেও বেশ শক্তিশালী। রুট, বাটলার কিংবা বেন স্টোকস আছে। শুধু অধিনায়ক মরগ্যান ছাড়া। আমি বুঝি না বিশ্বকাপ আসলেই যেন মরগ্যান অফফর্মে চলে যায়। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দেখেছি। এবারো দেখছি। দল হয়তো সাফল্য পাওয়ার কারণে এগুলো দেখা যাচ্ছে না। অথচ গতবারই দেখলাম, বিশ্বকাপের পরই অসাধারণভাবে ফর্মে ফিরে আসেন তিনি।

সামগ্রিক বিচারে আমার কাছে মনে হয়েছে, ইংল্যান্ডের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী। প্রথম বল থেকেই মারমুখি অবস্থানে চলে যায় তারা। জেসন রয় আর আলেক্স হেলস থেকে শুরু করে আট-নয় পর্যন্ত তাদের ব্যাটসম্যান রয়েছে। এটাই তাদের বড় শক্তি।

আবার মনে হয় ফাইনালে রুট, বাটলারদের মরগ্যানের আগে নামা উচিৎ। তাতে অন্তত দ্রুত রান উঠবে এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। ইংল্যান্ড আজ বোলিংটাও খুব ভালো করেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চার/পাঁচ ওভার ইংল্যান্ডের বোলাররা অসাধারণ বোলিং করেছে। আমি তো মনে করি বোলিংই ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলেছে। শেষ ৪ ওভারে রান দিয়েছে মাত্র ২০। অথচ এ সময়ে এসে রান হয় কম করে ৪০ কিংবা ৫০। ক্রিস জর্ডান তো অসাধারণ বোলিং করতেছে। কী নিখুঁত লাইন-লেন্থ। যেমন বল করতে চায় তেমনই করতে পারছে সে।

নিউজিল্যান্ডের জন্য দুর্ভাগ্য। আবারো সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো। তাদের ব্যাটসম্যানরা আসলে সময়মতো জ্বলে উঠতে পারেনি। তবে দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তিও তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। যে কারণে ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলতে পারেনি। টপ চারজন ব্যাটসম্যান ইনিংসে সেট হয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ছোট ছোট ইনিংস খেলে আউট হয়ে গেছে। একজন ব্যাটসম্যানও যদি ৭০-৮০ করতে পারতো, তাহলে ম্যাচ ভিন্নরকমও হতে পারতো।

লেখক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলর সাবেক অধিনায়ক।

আইএইচএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।