চ্যাটজিপিটি দিয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে আপনি আয় করতে পারবেন

ডিজিটাল যুগে আয়ের ধারণা বদলে গেছে দ্রুত। আগে যেখানে উপার্জন মানেই ছিল অফিস বা ব্যবসা, এখন সেখানে প্রযুক্তি বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য তৈরি করেছে নতুন পথ। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ হলো চ্যাটজিপিটি, যা তৈরি করেছে ওপেনএআই। লেখালেখি থেকে শুরু করে মার্কেটিং, কোডিং, এমনকি অনলাইন ব্যবসা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই টুল ব্যবহার করে অনেকে নিয়মিত আয় করছেন।

কীভাবে সম্ভব? চলুন বিস্তারিত জানা যাক-

১. ফ্রিল্যান্স লেখালেখি করে আয়
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ব্লগ, আর্টিকেল, স্ক্রিপ্ট, প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট লেখা খুব সহজ। আপনি যদি লেখালেখির কাজ জানেন, তাহলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস যেমন ফাইবার বা আপওইয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খুলে ক্লায়েন্টদের জন্য কনটেন্ট লিখে আয় করতে পারেন। চ্যাটজিপিটি আইডিয়া তৈরি, খসড়া লেখা বা ভাষা ঠিক করতে সহায়তা করে ফলে কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং আয় বাড়ে।

২. সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট সার্ভিস
অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পোস্ট, ক্যাপশন বা বিজ্ঞাপনের কপি লিখতে পারে না। আপনি চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তাদের জন্য মাসিক কনটেন্ট প্ল্যান, পোস্ট আইডিয়া ও ক্যাপশন তৈরি করে সার্ভিস দিতে পারেন। এতে একাধিক ক্লায়েন্ট থেকে স্থায়ী আয় সম্ভব।

৩. ইউটিউব স্ক্রিপ্ট ও ভিডিও আইডিয়া বিক্রি
ভিডিও বানানোর জন্য স্ক্রিপ্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাটজিপিটি দিয়ে দ্রুত আকর্ষণীয় স্ক্রিপ্ট, টপিক আইডিয়া বা ভিডিও টাইটেল তৈরি করা যায়। এগুলো ইউটিউবারদের কাছে বিক্রি করা বা নিজেই ইউটিউব চ্যানেল খুলে আয় করা যায়।

৪. ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি
ই-বুক, অনলাইন কোর্স আউটলাইন, রেজুমে টেমপ্লেট, ইমেইল টেমপ্লেট এসব ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করা যায়। চ্যাটজিপিটি এই প্রোডাক্ট তৈরির কনটেন্ট ও আইডিয়া তৈরি করে সময় বাঁচায়।

৫. অনলাইন টিউটরিং বা কনসালটিং
আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হন যেমন ইংরেজি, প্রোগ্রামিং বা মার্কেটিং চ্যাটজিপিটির সাহায্যে পাঠ পরিকল্পনা, উদাহরণ ও অনুশীলনী তৈরি করে অনলাইন ক্লাস নিতে পারেন। এতে আপনার প্রস্তুতির সময় কমে যায়, আর আয় বাড়ে।

৬.কোডিং ও টেক সার্ভিস
প্রোগ্রামারদের জন্য চ্যাটজিপিটি কোড লেখা, ডিবাগিং বা ব্যাখ্যা দিতে পারে। ফলে ওয়েবসাইট তৈরি, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট বা অটোমেশন সার্ভিস দিয়ে দ্রুত প্রজেক্ট শেষ করে বেশি ক্লায়েন্ট নেওয়া সম্ভব।

তবে মনে রাখবেন, চ্যাটজিপিটি শক্তিশালী টুল হলেও এটি নিজে টাকা দেয় না টাকা আয় হয় আপনার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে। তাই শুধু কপি-পেস্ট না করে নিজের বিচারবুদ্ধি ও যাচাই ব্যবহার করা জরুরি। ক্লায়েন্টের কাজ জমা দেওয়ার আগে তথ্য ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন
এআইকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক
চ্যাটজিপিটিকে যেসব প্রশ্ন ভুলেও করবেন না

সূত্র: ওপেনএআই

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।