নির্বাচনের ছুটিতে বাইকের যেসব সার্ভিসিং করিয়ে নিতে পারেন
নির্বাচনের এই লম্বা ছুটি অনেকের কাছে শুধুই বিশ্রামের সময় নয়, এটা নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ারও ভালো সুযোগ। যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই সময়টা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ নিয়মিত ব্যস্ততার কারণে অনেকেই বাইকের ছোটখাটো সমস্যা এড়িয়ে যান, যা পরে বড় খরচ বা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ছুটির সময়টাকে কাজে লাগিয়ে বাইকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিসিং করিয়ে নিলে বাইক যেমন ভালো থাকবে, তেমনি যাত্রাও হবে নিরাপদ ও আরামদায়ক।
প্রথমেই যে বিষয়টি দেখা উচিত তা হলো ইঞ্জিন অয়েল। নির্দিষ্ট কিলোমিটার পরপর ইঞ্জিন অয়েল বদলানো না হলে ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশে ঘর্ষণ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। ছুটির দিনে সময় নিয়ে মেকানিকের কাছে গিয়ে অয়েল পরিবর্তন করিয়ে নিলে বাইকের পারফরম্যান্স আগের মতোই স্মুথ থাকবে।
এরপর ব্রেক সিস্টেম পরীক্ষা করা খুব জরুরি। ব্রেক প্যাড ক্ষয় হয়ে গেলে বা ব্রেক অয়েল কমে গেলে হঠাৎ ব্রেক কাজ না করার ঝুঁকি থাকে। তাই ব্রেক প্যাডের অবস্থা, ডিস্ক বা ড্রামের ঘর্ষণ এবং ব্রেক অয়েলের লেভেল ঠিক আছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত। নিরাপদ রাইডের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিসগুলোর একটি।
চেইন ও স্প্রকেট পরিষ্কার ও লুব্রিকেট করানোও দরকারি কাজ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে চেইনে ময়লা জমে শব্দ হয় এবং শক্তি সঠিকভাবে চাকা পর্যন্ত পৌঁছায় না। এতে মাইলেজ কমে এবং চেইন দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার ও তেল দিলে চেইনের আয়ু বাড়ে এবং রাইডিং মসৃণ হয়।
টায়ারের অবস্থা পরীক্ষা করাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। টায়ারের ট্রেড ক্ষয়ে গেলে রাস্তার গ্রিপ কমে যায়, বিশেষ করে ভেজা বা পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে টায়ারের সঠিক প্রেসার আছে কি না তা দেখে নিতে হবে। ভুল প্রেসার থাকলে জ্বালানি খরচ বাড়ে এবং টায়ার দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অনেকেই ভুলে যান, কিন্তু এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্টার্ট নিতে দেরি হলে বা হেডলাইটের আলো কমে গেলে বুঝতে হবে ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সার্ভিসিংয়ের সময় ব্যাটারির চার্জ লেভেল, টার্মিনাল সংযোগ ও ওয়্যারিং ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করে নিলে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
এছাড়া ক্লাচ ও থ্রটল কেবল, সাসপেনশন, লাইট, হর্ন এবং ইন্ডিকেটর ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত। এগুলো ছোটখাটো বিষয় মনে হলেও রাস্তায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
বাইকের ‘এবিএস সিস্টেম’ আসলে কী জানেন?
কত কিলোমিটার চালানোর পর বাইক সার্ভিসিং করানো জরুরি
সূত্র: অটোকার ইন্ডিয়া
কেএসকে