এআই আপনার স্বপ্নকেও নিয়ন্ত্রণ করবে, কিন্তু কীভাবে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা মানুষের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে

ঘুমের মধ্যে আপনি যা দেখছেন, তা যদি আপনার ইচ্ছেমতো বদলে দেওয়া যায় ভাবতে পারেন কেমন হবে বিষয়টা? দুঃস্বপ্ন আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা মুছে গিয়ে সুখকর কোনো দৃশ্য ভেসে উঠছে! শুনতে অবাস্তব লাগলেও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি কল্পনা নয়।

প্রোপেটিক এআই নামে একটি স্টার্টআপ দাবি করেছে, তারা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা মানুষের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমনি তার প্রয়োগের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হচ্ছে দ্রুত। দৈনন্দিন কাজ সহজ করা থেকে শুরু করে সৃজনশীল কাজ সব জায়গাতেই এআই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মানুষের স্বপ্নের জগতেও প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটতে চলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংস্থাটির মতে, তারা দুটি বিশেষ ওয়্যারেবল ডিভাইস তৈরি করেছে ডুয়াল এবং পেস। এই ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীর ঘুমের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্বপ্ন দেখার ধরন বদলে দিতে সক্ষম।

ব্যবহার পদ্ধতিও খুব জটিল নয়। এটি দেখতে অনেকটা হেডব্যান্ডের মতো, যা ঘুমানোর সময় মাথায় পরে রাখতে হয়। ডিভাইসটির সঙ্গে সংযুক্ত প্রযুক্তি ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে এবং সেই অনুযায়ী স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলে। নির্মাতাদের দাবি, ডিজাইনের দিক থেকেও দুটি মডেল প্রায় একইরকম।

এই ডিভাইসগুলোর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি লুসিড ড্রিম বা সচেতন স্বপ্ন তৈরি করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারী ঘুমের মধ্যেই বুঝতে পারবেন যে তিনি স্বপ্ন দেখছেন এবং কিছুটা হলেও সেই স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

দামের দিক থেকেও এই প্রযুক্তি বেশ ব্যয়বহুল। ডুয়াল মডেলের মূল্য প্রায় ৪৪৯ ডলার এবং পেস মডেলের দাম প্রায় ১২৯৯ ডলার

সংস্থাটি জানিয়েছে, এখনো এই প্রযুক্তি নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। ডুয়াল মডেলটি শিগগিরই বাজারে আসতে পারে, আর উন্নত সংস্করণ পেস বাজারে আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ এ বিষয়ে এখনই পুরোপুরি আশাবাদী নন। বাস্তবে এই ডিভাইস কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

প্রযুক্তিটির কার্যপদ্ধতি আরও একটু গভীরে গেলে দেখা যায়, এতে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রান্সক্রেনিয়াল ফোকাসড আল্ট্রাসাউন্ড এবং এআই। এই প্রযুক্তি মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে উদ্দীপিত করে। সাধারণত ঘুমের সময় এই অংশ কম সক্রিয় থাকে, কিন্তু ডিভাইসটির মাধ্যমে সেখানে সিগন্যাল পাঠিয়ে সেটিকে সক্রিয় করা হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের ফ্রন্টোপ্যারাইটাল নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা সচেতন চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণেই ব্যবহারকারী ঘুমের মধ্যেও স্বপ্ন সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারেন।

এছাড়াও, ডিভাইসটিতে রয়েছে ইইজি সেন্সর, যা ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।