বৃষ্টিতে বাইক চালানোর সময় যেসব বিষয়ে নজর রাখবেন
ছবি: জাগো নিউজ
বৃষ্টির দিনে বাইক চালানো মানেই বাড়তি সতর্কতা। রাস্তা পিচ্ছিল, দৃশ্যমানতা কম, ব্রেকিং দূরত্ব বেশি সব মিলিয়ে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি আর সচেতনতা থাকলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই বৃষ্টিতে বাইক চালানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
- প্রথমেই আসি টায়ারের বিষয়ে। ভেজা রাস্তায় টায়ারের গ্রিপই আপনার সবচেয়ে বড় ভরসা। টায়ারের ট্রেড যদি ক্ষয়ে যায়, তাহলে পানি সরানোর ক্ষমতা কমে যায় এবং স্লিপ করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত টায়ার পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন। টায়ারের সঠিক এয়ার প্রেসার বজায় রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- ব্রেকিং নিয়েও থাকতে হবে সতর্ক। শুকনো রাস্তার তুলনায় ভেজা রাস্তায় ব্রেক কষলে বাইক থামতে বেশি সময় নেয়। তাই হঠাৎ জোরে ব্রেক না করে ধীরে ধীরে ব্রেক করুন এবং সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখুন। বিশেষ করে ডিস্ক ব্রেক থাকলেও হঠাৎ চাপ দিলে স্কিড করার ঝুঁকি থাকে।
- দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি বৃষ্টিতে অনেক কমে যায়। হেলমেটের ভিজরে পানি জমে, সামনে ঝাপসা দেখা যায়। তাই ভালো মানের অ্যান্টি-ফগ ভিজর ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি হেডলাইট সবসময় অন রাখুন, যাতে অন্যরাও আপনাকে সহজে দেখতে পায়। উজ্জ্বল বা রিফ্লেক্টিভ পোশাক পরলে নিরাপত্তা আরও বাড়ে।
- রাস্তার অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বৃষ্টিতে রাস্তার উপর তেল, ধুলো মিশে আরও বেশি পিচ্ছিল হয়ে যায়, বিশেষ করে প্রথম বৃষ্টিতে। জেব্রা ক্রসিং, ম্যানহোল কভার, ব্রিজের লোহার অংশ এসব জায়গা খুবই স্লিপারি হয়। তাই এসব জায়গায় গতি কমিয়ে সাবধানে চলুন।
- কোণ ঘোরানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বৃষ্টিতে হঠাৎ করে বেশি লিন করলে বাইক স্লিপ করতে পারে। তাই ধীরে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে বাঁক নিন। একইভাবে হঠাৎ অ্যাক্সিলারেশন বা দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন থেকেও বিরত থাকুন।
- নিজের নিরাপত্তার জন্য সঠিক গিয়ার ব্যবহার করাও জরুরি। ভালো মানের হেলমেট, রেইনকোট, গ্লাভস ও ওয়াটারপ্রুফ জুতা ব্যবহার করুন। এগুলো শুধু আপনাকে ভেজা থেকে রক্ষা করবে না, বরং নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।
- বৃষ্টির দিনে রাস্তার গর্ত বা পানিভর্তি অংশ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বড় কোনো পানির জমে থাকা অংশ দেখলে এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এর নিচে গভীর গর্ত থাকতে পারে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
- সবশেষে, ধৈর্যই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে, সচেতনভাবে বাইক চালান। প্রয়োজন হলে রাস্তার পাশে থেমে বৃষ্টি কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করাও বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: বাইকবিডি
- আরও পড়ুন
নজরকাড়া হেরিটেজ কালেকশন আনছে রয়্যাল এনফিল্ড
প্রথমবার বৈদ্যুতিক স্কুটার কিনলে কী কী দেখে কিনবেন
কেএসকে