এআই ব্যবহারে কমছে আত্মনির্ভরতা
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি কিংবা জেমিনি-এর মতো এআই টুল এখন পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস অ্যাপ সবই এখন ই-মেইল লেখা, মিটিংয়ের সারসংক্ষেপ তৈরি, সময়সূচি সাজানো এমনকি কনটেন্ট তৈরির কাজও সহজ করে দিচ্ছে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, এসব প্রযুক্তি কি সত্যিই আমাদের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে, নাকি কেবল নতুন ধরনের ব্যস্ততায় ডুবিয়ে রাখছে?
অনেকের কাছে এআই সময় বাঁচানোর কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা কঠিন গবেষণার কাজ সহজ করতে এটি ব্যবহার করছে, চাকরিজীবীরা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ অটোমেট করছে এবং কনটেন্ট নির্মাতারা দ্রুত নতুন ধারণা বের করতে পারছেন। আগে যেখানে একটি প্রেজেন্টেশন বা ই-মেইলের খসড়া তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন কয়েক মিনিটেই তার ভিত্তি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
তবে সুবিধার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। ছোটখাটো সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে লেখালেখি কিংবা সাধারণ সমস্যার সমাধান সব ক্ষেত্রেই মানুষ ধীরে ধীরে এআইয়ের সাহায্যের ওপর নির্ভর করছে। এর ফলে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা এবং নিজস্ব বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তথ্যের অতিরিক্ত চাপ। এআই খুব দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করতে পারলেও সেটি সব সময় নির্ভুল বা নির্ভরযোগ্য হয় না। ফলে তৈরি করা তথ্য যাচাই, সম্পাদনা এবং ভুল সংশোধনের পেছনে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয়। অনেক সময় শুরুতে যে সময় সাশ্রয় হয়, পরে তা যাচাই করতেই শেষ হয়ে যায়।
এছাড়া ‘ফেক প্রোডাক্টিভিটি’ নামের একটি প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা নতুন এআই টুল পরীক্ষা করা, প্রম্পট ঠিক করা বা বিভিন্ন ড্রাফট তৈরি করার মধ্যেই ব্যস্ত থাকেন। এতে কাজ হচ্ছে বলে মনে হলেও বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ বা অর্থবহ অগ্রগতি খুব বেশি হয় না।
তাহলে সমাধান কোথায়?
যেসব ক্ষেত্রে এআই কার্যকর হতে পারে-
- একঘেয়ে ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে
- দ্রুত প্রথম খসড়া তৈরি বা নতুন আইডিয়া বের করতে
- বিশাল পরিমাণ তথ্য সাজিয়ে ও সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে
যেসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি-
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়
- গভীর সৃজনশীল বা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার ক্ষেত্রে
- তথ্য ও ফ্যাক্ট যাচাইয়ের কাজে
কেএসকে