অফকমের বিরুদ্ধে অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে মেটার আইনি চ্যালেঞ্জ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ১১ মে ২০২৬
ধার্য করা ফি ও সম্ভাব্য জরিমানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে মেটা

যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ধার্য করা ফি ও সম্ভাব্য জরিমানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে মেটা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। এ আইনের আওতায় অনলাইন নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক অফকম-এর ব্যয় বহন করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিবিসির খবরে বলা হয়-গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া বিধিমালা অনুযায়ী, বছরে ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি আয় করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক আয়ের ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে। মেটার দাবি, অফকম ফি ও জরিমানা নির্ধারণে যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে তা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’। অন্যদিকে অফকম জানিয়েছে, তারা নিজেদের অবস্থান ‘দৃঢ়ভাবে রক্ষা’ করবে।

মামলায় মেটা সার্চ ইঞ্জিন ও ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম-বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কিত বিধানকে চ্যালেঞ্জ করেছে। কোম্পানিটির আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, বর্তমান বিধিমালা আইনসম্মত নয় এবং তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

মেটার পক্ষে আইনজীবী মনিকা কার্স-ফ্রিস্ক বলেন, অফকমের এই পদ্ধতি ‘উদ্বেগজনক’এবং এতে মেটার মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অধিকাংশ ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। অথচ আইনটি যুক্তরাজ্যে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক আয়ের ভিত্তিতে হিসাব নির্ধারণ করা হলেও তা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেবার আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

আইন অনুযায়ী, অনলাইন নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অথবা ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড-যেটি বেশি-জরিমানা করা যেতে পারে।

একই মূল প্রতিষ্ঠানের অধীন একাধিক কোম্পানি যৌথভাবে দায়ী হলে জরিমানা কীভাবে নির্ধারণ হবে, তা নিয়েও আপত্তি তুলেছে মেটা। বৃহস্পতিবার লন্ডনের প্রাথমিক শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, জনপ্রিয় ভিডিও গেম ফোর্টনাইট-এর নির্মাতা এপিক গেমস এবং কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন মামলায় অংশ নেওয়ার অনুমতি চাইতে পারে।

বিচারপতি চেম্বারলেইন বলেন, মামলাটি ‘বিস্তৃত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট’ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আগামী জুনে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানি হতে পারে অক্টোবরে। এর আগে গত আগস্টে অনলাইন নিরাপত্তা আইনের বয়স যাচাইসংক্রান্ত বিধানের বিরুদ্ধে করা আইনি চ্যালেঞ্জে হেরে যায় উইকিপিডিয়া।

অফকমের এক মুখপাত্র বলেন, সংস্থাটি ‘আইনের সরল ব্যাখ্যা’ অনুসরণ করেই তাদের নীতি নির্ধারণ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মেটা ভবিষ্যতে আরোপিত হতে পারে এমন ফি ও জরিমানার বিরোধিতা করছে।

অন্যদিকে মেটার মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে অফকমের সঙ্গে ‘গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা’ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে জরিমানার হিসাব সংশ্লিষ্ট দেশে পরিচালিত সেবাগুলোর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত বলেও মত দেয় কোম্পানিটি।’

সূত্র: বিবিসি

শাহজালাল/কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।