এআই দৌড়ে বড় ছাঁটাই, ক্ষোভে ফুঁসছেন ওরাকলের চাকরিচ্যুত কর্মীরা
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রিক পুনর্গঠনের ঢেউয়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট ওরাকল একদিনে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। গত ৩১ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে এই ছাঁটাই কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ।
তাদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চাকরি হারানো এক কর্মী জানান, তিনি অফিসের ভিপিএনে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখেন তার অ্যাকাউন্ট আর সক্রিয় নেই। পরে সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তার স্ল্যাক অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর ই-মেইলে চাকরি বাতিলের নোটিশ পান তিনি।
ছাঁটাইয়ের পর কর্মীদের জন্য একটি সেভারেন্স প্যাকেজ ঘোষণা করে ওরাকল। এতে প্রথম বছরের জন্য চার সপ্তাহের বেতন এবং পরবর্তী প্রতি বছরের চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। সর্বোচ্চ ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়। এছাড়া এক মাসের স্বাস্থ্যবিমা সুবিধাও রাখা হয়।
তবে কর্মীদের অভিযোগ, কোম্পানিটি তাদের স্টকভিত্তিক সুবিধাগুলো বাতিল করে দিয়েছে। বিশেষ করে অনেক কর্মীর বেতনের বড় অংশ ছিল আরএসইউ বা রেস্ট্রিকটেড স্টক ইউনিটের ওপর নির্ভরশীল। চাকরি বাতিলের তারিখের আগে যেসব শেয়ার ভেস্ট হয়নি, সেগুলো সম্পূর্ণ হারাতে হয়েছে কর্মীদের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এক কর্মকর্তা প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের শেয়ার হারিয়েছেন, যা মাত্র চার মাস পর ভেস্ট হওয়ার কথা ছিল। তার মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই স্টক সুবিধার মাধ্যমে আসত।
আরও অভিযোগ উঠেছে, অনেক কর্মীকে ‘রিমোট ওয়ার্কার’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ন অ্যাক্ট আইনের সুরক্ষা পাননি। এই আইন অনুযায়ী, বড় পরিসরে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে অন্তত দুই মাস আগে কর্মীদের নোটিশ দিতে হয়। কিন্তু দূরবর্তী কর্মী হিসেবে দেখানো হলে সেই আইনের আওতা এড়ানো সম্ভব হয়।
অনেক কর্মী দাবি করেছেন, তারা নিয়মিত অফিসে যাওয়া-আসা করলেও কোম্পানির নথিতে তাদের রিমোট কর্মী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ফলে তারা আইনি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
এরপর চাকরিচ্যুত কর্মীদের একটি অংশ সম্মিলিতভাবে ওরাকলের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন। অন্তত ৯০ জন কর্মী একটি উন্মুক্ত আবেদনে স্বাক্ষর করে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো উন্নত সেভারেন্স সুবিধা দাবি করেন।
তারা উদাহরণ হিসেবে মেটা, মাইক্রোসফট এবং ক্লাউডফ্লায়ার মেটা, মাইক্রোসফট এবং ক্লাউডফ্লেয়ার-এর ছাঁটাই নীতির কথা উল্লেখ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত বেতন, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবা ও স্টক ভেস্টিংয়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
তবে কর্মীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ওরাকল। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত সুবিধা ‘নাও অথবা ছেড়ে দাও’ ভিত্তিতেই কার্যকর থাকবে। পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে উচ্চ বেতন ও স্টক সুবিধা থাকলেও চাকরির নিরাপত্তা ও কর্মীদের সুরক্ষায় এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে এআই-কেন্দ্রিক পুনর্গঠনের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
সূত্র: টেকক্রাঞ্চ
শাহজালাল/কেএসকে