৫-৬ হাজার টাকায় কেনা যাবে স্মার্টফোন, তাও আবার কিস্তিতে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ১৯ মে ২০২৬
স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার

ডিজিটাল যুগে এসে স্মার্টফোন অপরিহার্য ডিভাইস হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনা থেকে বিশ্বের খবর জানা, কিংবা বাজার করা-বাসার বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্মার্টফোনে কয়েক ক্লিকেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বাইরে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে না। তবে বাজেট কম থাকায় অনেকেই স্মার্টফোন কিনতে পারেন না।

এবার দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। খুব শিগগিরই ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষ যেন সহজে ফোন কিনতে পারেন, সেজন্য চালু হতে পারে কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুবিধাও। ফলে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্বল্প আয়ের মানুষও কম টাকা দিয়েই হাতে পেতে পারেন ৪জি বা ৫জি স্মার্টফোন।

রাজধানীর একটি গোলটেবিল আলোচনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, দেশে এখনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর হার ৫০ শতাংশের নিচে। অথচ ডিজিটাল সেবা, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা সরকারি সুবিধা নিতে স্মার্টফোন এখন প্রায় অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বাজারে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোনের দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষ ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে ফোন খোঁজেন। এজন্য সরকার ও মোবাইল নির্মাতারা মিলে কম দামের স্মার্টফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে।’

কীভাবে কিস্তিতে ফোন কেনা যাবে?

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক এবং স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। ইএমআই চালু হলে ফোনের দাম যদি ৬ হাজার টাকাও হয় একজন গ্রাহক মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ফোন নিতে পারবেন। বাকি টাকা ৬ মাস থেকে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুবিধা চালু হলে গ্রামের মানুষও সহজে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে অনলাইন ক্লাস, টেলিমেডিসিন, কৃষি তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সেবার ব্যবহার আরও বাড়বে।

কিস্তিতে ফোন কিনতে কী কী লাগতে পারে?

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা ঘোষণা হয়নি, তবে সাধারণত কিস্তিতে স্মার্টফোন কিনতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়, সেগুলোর মধ্যে থাকতে পারে।

কেন এখনো কম দামে স্মার্টফোন পাওয়া কঠিন?

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, একটি বেসিক ৪জি অ্যান্ড্রয়েড ফোন তৈরি করতে আন্তর্জাতিক বাজারে চিপ, ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মিলিয়ে প্রায় ৬০ ডলার খরচ হয়। ফলে খুব কম দামে মানসম্মত স্মার্টফোন তৈরি করা সহজ নয়। তবুও সরকার স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নেটওয়ার্ক বাড়ালেই হবে না, মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছাতে হবে। আর সেটি সম্ভব হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।