কম্পিউটার প্রোগামিংকে পেশা হিসেবে চান ১২০ তরুণী
বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের মাদ্রসার ফাজিল (স্নাতক) ২য় বর্ষের ছাত্রী মুন্নী। ১৫দিন আগেও তিনি কম্পিউটার শুধু দেখেছেন।
কিন্ত কম্পিউটার কিভাবে পরিচালনা করতে হয় সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিলনা তার। এখন কম্পিউটারে ৫/৬টি প্রোগাম পরিচালনা করতে পারেন তিনি।
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রাণালয়ের আওতাধীন ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’র অধীন ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে এ দক্ষতা অর্জন করেছেন মুন্নী।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদারের কাছ থেকে মুন্নী ও তার মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১২০ জন তরুণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ শেষে সনদ গ্রহণ করেছেন। এখন তারা স্বপ্ন দেখছেন আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে পেশা হিসাবে নিয়ে নিজেই স্বাবলম্বী হতে পারার।
বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে শনিবার দুপুর ১ টার দিকে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের হাতে সনদ তুলে দেয়া হয়।
বরিশালের তিন উপজেলা যথাক্রমে বানারীপাড়া, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জের ৪০ জন করে মোট ১২০ জন এ প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন আইসিটি প্রতিষ্ঠান হাকসে।
সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস।
অতিথি হিসেবে ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাকাহিদ হোসেন, বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ জেড এম মোর্শেদ আলী ও উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাকসের চেয়ারম্যান মো. শাহে আলম।
হাকস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাজীব চৌধুরী জানান, উপজেলার এক ইউনিয়ন থেকে ২০ জন কলেজ পর্যায়ের ছাত্রীকে কম্পিউটারের এক্সেল, এমএস ওয়ার্ড, ইন্টারনেট ব্যবহার, আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ২০ ছাত্রী বাছাইয়ের পর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ১৫ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। তারই অংশ হিসাবে সারাদেশে ৫৫ হাজার কলেজ ছাত্রীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ বেসিক হলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রীরা পরবর্তীতে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে কম্পিউটার প্রোগামিংকে পেশা হিসাবে নিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
এমজেড/পিআর