চলতি বছর পিসির দাম বাড়বে ১০ শতাংশ


প্রকাশিত: ০২:১৭ এএম, ০৯ মে ২০১৫

পিসি নির্মাতারা চলতি বছরেই পিসির দাম বাড়াবেন। বিশ্বব্যাপী মুদ্রা মানের সমন্বয় করতে নির্মাতারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার বিশেষভাবে ইউরোজোন ও জাপানের কথা উল্লেখ করে জানায়, এ অঞ্চলে পিসির দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ ক্রমহ্রাসমান পিসির বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর সেলুলার নিউজ।

বিশ্বের অনেক দেশের মুদ্রার তুলনায় মার্কিন ডলারের অতিমূল্যায়ন হচ্ছে। আর এ প্রবণতা কোম্পানিগুলোর মুনাফা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ বিষয়ে গার্টনারের গবেষণা পরিচালক রণজিৎ অতওয়াল বলেন, ‘অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় মার্কিন ডলারের অতিমূল্যায়ন হচ্ছে। এ কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা অর্জন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাহত হচ্ছে।

ইউরোপ ও জাপান পিসি নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আর এসব বাজারে মুদ্রার মান চলতি বছরের শুরু থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।’ এ পরিস্থিতিতে মুনাফা ধরে রাখতে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে উল্লেখযোগ্য কোনো উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেন অতওয়াল।

চলতি বছর পশ্চিম ইউরোপে পিসি গ্রাহকদের ব্যয় দাঁড়াবে ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় দাম বাড়ার কারণেই এ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে গার্টনারের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এ বিষয়ে অতওয়াল জানান, চলতি বছর এ অবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে পিসি নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়াবে। অন্যদিকে সেবার পরিমাণ কমিয়ে দাম কম রাখারও সম্ভাবনা রয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণে গ্রাহক পর্যায়ের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গার্টনারের প্রতিবেদনে গ্রাহককে মূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এক শ্রেণীর গ্রাহক রয়েছেন, যারা পণ্যের মূল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে তারা চলতি বছর তুলনামূলক কম ফিচারের পিসি কিনবেন। এতে করে তারা দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাদের বাজেটের সমন্বয়ে সক্ষম হবেন।

মোট পিসি বাজারের ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এ আচরণ লক্ষ করা যাবে। অন্য এক শ্রেণীর গ্রাহক রয়েছেন, যারা পিসির মানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তারা পিসির দাম বাড়ার কারণে নতুন পিসি কেনায় বিলম্ব করবেন। অর্থাৎ দাম কমার অপেক্ষা করবেন। বাজারটির ৪০ শতাংশ গ্রাহক এ ধরনের আচরণ করবেন।

আরেক শ্রেণীর গ্রাহক রয়েছেন, যারা পিসির ফিচারকে গুরুত্ব দেন। এ কারণে তারা দাম কমিয়ে কম ফিচারসংবলিত পিসি কিনতে আগ্রহী হবেন না। পুরনো পিসির আয়ুষ্কাল বাড়ানোর পাশাপাশি বেশি দামেই পিসি কিনবেন তারা। এতে বাজেট বাড়িয়ে তারা মূল বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করবেন। এ ধরনের গ্রাহক মোট বাজারের ৩০ শতাংশ।

এআরএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।