আপনার বেসুরো গলার গান সুরেলা করে দেবে যেসব অ্যাপ
গান গাইতে ভালোবাসেন, কিন্তু নিজের গলা শুনে মনে হয় সুর ঠিকঠাক মিলছে না? সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন কিংবা প্রেমিকাকে পাঠাবেন, কিন্তু ট্রলের স্বীকার হওয়ার ভয়ও রয়েছে তাতে। আগে এমন সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন হতো স্টুডিও, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার বা ব্যয়বহুল সফটওয়্যার। তবে এখন স্মার্টফোনেই মিলছে সমাধান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক অডিও প্রসেসিং প্রযুক্তির কারণে এমন অনেক অ্যাপ এসেছে, যা আপনার বেসুরো গলাকেও তুলনামূলক সুরেলা করে তুলতে পারে। এসব অ্যাপ শুধু অটো-টিউনই করে না, বরং ভয়েস ক্লিনিং, পিচ কারেকশন, রিভার্ব, ইকো ও স্টুডিও কোয়ালিটির ইফেক্টও যোগ করতে পারে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীও সহজেই নিজের গানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
আসুন এখন কিছু অ্যাপের সন্ধান দেব আজ, যেগুলো আপনার ফোনেই খুব সহজে ব্যবহার করতে পারবেন-
স্মুল (Smule) নতুনদের জন্য সহজ কারাওকে অ্যাপ
যারা গান গাইতে পছন্দ করেন কিন্তু নিজের গলায় আত্মবিশ্বাস কম, তাদের জন্য স্মুল বেশ জনপ্রিয় একটি অ্যাপ। এটি মূলত কারাওকে ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জনপ্রিয় গানের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গাওয়া যায়। গান রেকর্ড করার সময় অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কণ্ঠে বিভিন্ন অডিও ইফেক্ট যোগ করে, ফলে গলা তুলনামূলক বেশি পরিষ্কার ও সুরেলা শোনায়। এতে ডুয়েট গাওয়ার সুবিধাও রয়েছে, ফলে পছন্দের শিল্পীর গানের সঙ্গে নিজের কণ্ঠ মিলিয়ে গান করার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়।
ভোলোকো (Voloco) মোবাইলেই অটো-টিউনের স্টুডিও
বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ভয়েস-টিউনিং অ্যাপগুলোর মধ্যে ভোলোকো অন্যতম। এটি এআই-ভিত্তিক ভয়েস প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কণ্ঠের সুর ঠিক করে দেয়। অ্যাপটি রিয়েল-টাইমে ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমাতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিচ কারেকশন করে গলাকে আরও মসৃণ শোনায়। এতে ৫০টিরও বেশি ভয়েস ইফেক্ট ও অটো-টিউন প্রিসেট রয়েছে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর টিকটক, ফেসবুক রিলস ও ইউটিউব শর্টসের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করেন।
ব্যান্ডল্যাব (BandLab) মোবাইলেই পুরো মিউজিক স্টুডিও
ব্যান্ডল্যাব শুধু ভয়েস ঠিক করার অ্যাপ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল মিউজিক স্টুডিও। এখানে গান রেকর্ড, এডিট, মিক্সিং ও মাস্টারিং সবকিছুই করা যায়। অ্যাপটির অটোপিচ ফিচার বেসুরা কণ্ঠকে অনেকটাই সুরের মধ্যে নিয়ে আসে। পাশাপাশি মাল্টি-ট্র্যাক রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় ব্যবহারকারীরা আলাদা আলাদা ভয়েস লেয়ার যোগ করতে পারেন। যারা গান তৈরি বা কভার সং তৈরি করতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর একটি অ্যাপ।
স্টারমেকার (StarMaker) গান গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হওয়ার প্ল্যাটফর্ম
স্টারমেকার মূলত একটি সামাজিক কারাওকে অ্যাপ, যেখানে গান গেয়ে সরাসরি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। অ্যাপটি কণ্ঠের সুর ও টোন কিছুটা ঠিক করে দেয় এবং রিভার্ব, ইকো ও ভয়েস বিউটিফিকেশন ইফেক্ট যোগ করে গানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বিশেষ করে যারা ভিডিওসহ গান আপলোড করতে চান, তাদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। নতুন গায়করা সহজেই এখানে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারেন।
টিউন মি (Tune Me) র্যাপ ও হিপ-হপ গানের জন্য আদর্শ
র্যাপ বা হিপ-হপ ধরনের গান যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য টিউন মি বেশ কার্যকর। এতে শক্তিশালী অটো-পিচ ও বিট সিঙ্ক প্রযুক্তি রয়েছে, যা কণ্ঠকে আধুনিক র্যাপ গানের মতো শোনাতে সাহায্য করে। অ্যাপটি দ্রুত ভয়েস প্রসেস করতে পারে এবং গানের সঙ্গে কণ্ঠের মিল ঠিক রাখে। ফলে সাধারণ গলাও অনেকটা স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের মতো অনুভূতি দেয়।
ভয়েস টিউন (VoiceTune) সহজে ভয়েস সুন্দর করার সমাধান
যারা জটিল সেটিংস ছাড়া দ্রুত ভয়েস ঠিক করতে চান, তাদের জন্য ভয়েস টিউন বেশ সহজ একটি অ্যাপ। কয়েকটি ট্যাপেই এতে ভয়েস ক্লিন, স্মুথ ও টিউন করা যায়। এটি মূলত নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী, কারণ অ্যাপটির ইন্টারফেস খুবই সহজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোট গান বা ভয়েস ক্লিপ আপলোড করার আগে দ্রুত অডিও উন্নত করতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কেএসকে