ব্যান্ডউইথ ঘাটতির খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান মন্ত্রণালয়ের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ১২ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। দেশের সব অপারেটর, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের প্রধান সরকারি সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দুটি ট্রাস্টেড সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম—এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ এবং এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ সফলভাবে পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে এই দুই ক্যাবল সিস্টেমের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ এরই মধ্যে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও প্রায় ৩ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা বিএসসিপিএলসির রয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম বিএসসিপিএলসির মতামত গ্রহণ না করেই সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গত বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিএসসিপিএলসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার মধ্যে মাত্র ১০০ জিবিপিএস লোহিত সাগর (রেড সি) হয়ে যায়, যা মোট সক্ষমতার মাত্র ১.৩৪ শতাংশ। এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিদ্যমান কোনো ক্যাবলের সংযোগ নেই। অবশিষ্ট ৭ হাজার ১০০ জিবিপিএসের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৬ হাজার জিবিপিএস এবং চেন্নাইয়ে ১ হাজার ১০০ জিবিপিএস সংযোগ রয়েছে, যা হরমুজ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালিরওিপর নির্ভরশীল নয়। ফলে “হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে”— এমন প্রচারণা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একইসঙ্গে কিছু গণমাধ্যমে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ ক্যাবলের সক্ষমতা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও ভুল বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই ক্যাবলের লিট আপ ক্যাপাসিটি ২ হাজার ২০০ জিবিপিএস, যার মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ১,৪৮৮ জিবিপিএস। অর্থাৎ এখনো ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে। ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা করে তা আরও বাড়ানো সম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪-কে “জীবনকালের শেষ পর্যায়ে থাকা পুরোনো ক্যাবল” হিসেবে উপস্থাপন করে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি। বর্তমানে এই ক্যাবলের সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৫০ জিবিপিএস এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। কনসোর্টিয়াম কর্তৃক এর আয়ুষ্কাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে এবং তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিএসসিপিএলসি এরই মধ্যে আরও একটি ট্রাস্টেড সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ বাস্তবায়ন করছে। ২০২৭ সালের শুরুতে এই ক্যাবল চালু হলে কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর এবং কক্সবাজার-মুম্বাই প্রান্তে প্রায় ১৫ হাজার জিবিপিএস করে মোট ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জিত হবে। এর ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএস।

বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।

ইএইচটি/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।