ফুজি সান: ফিফথ স্টেশনের পথে- শেষ পর্ব

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: লেখকের সৌজন্যে

দেওয়ান মোহাম্মদ আহসান হাবীব

তো যাই হোক, ফিরে আসি ফুজি সানের প্রসঙ্গে। যাত্রাপথে ফুজি সানের প্রথম বলিষ্ঠ চেহারা আমি দেখতে পাই ফুজিকাওয়াগুচিকো শহরের লওসন পয়েন্টে। টোকিও মহানগরী থেকে ট্র্যাফিক জ্যামসহ এখানে পৌঁছাতে মোট সময় লেগেছে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো। স্পষ্ট চোখে দেখতে পাচ্ছি, দূরে বসে আছেন ফুজি সান! শান্ত বিশাল, বিশাল তার অবয়ব। চারপাশে শ্বেত-শুভ্র মেঘ! দিনের তাপমাত্রায় নেই কোনো উষ্ণতা, হালকা শীতল পরিবেশ আর মৃদুমন্দ বায়ুর দোল দেওয়া প্রবাহ! দূরে নীলাভ ধূসর বিশাল অবয়ব! যেন এক রাজকীয় আসনে বসে ধ্যানমগ্ন ফুজি সান! চারপাশে সবুজ সমারোহ আর নিস্তব্ধ পরিবেশে গাড়ির ছোটাছুটি যেন একেবারেই বেমানান!

ফুজি সানকে আরও কাছ থেকে উপলব্ধির জন্য লওসন পয়েন্ট থেকে আরেকটু এগিয়ে ব্রিজ পেরিয়ে হাজির হই লেক কাওয়াগুচিকো মিউজিক ফরেস্ট মিউজিয়াম পয়েন্টে। এখানে লেকের পাড় ধরে বাঁধানো পথের একপাশে সারি সারি সাকুরা গাছ আর অপর পাশে বিস্তীর্ণ নীলাভ জলরাশিতে পূর্ণ কাওয়াগুচি লেক। লেক পেরিয়ে অপর পাশে বেশ দূরে নিজ রূপে মূর্তিমান মহামতি ফুজি সান! পুরো এলাকাটি সবুজে সবুজে ভরপুর। পরিকল্পিত সারি সারি গাছ-গাছালিতে পরম আদরে মা যেন সাজিয়ে রেখেছেন তার অঙ্গন। ঈষৎ রৌদ্র উজ্জল দিন আর হু হু বাতাস কেমন যেন কাঁপিয়ে তুলছে লেক কাওয়াগুচির জলরাশি। লেকের পাড়ে কংক্রিট বিছানো পথে হাঁটতে হাঁটতে বেশ শুনতে পাচ্ছি নীলাভ জলরাশির শুভ্র সৌম্য ঢেউয়ের প্রতিধ্বনি। ওপারে ফুজি সান আর এপারে আমি। মাঝখানে নীলাভ কাওয়াগুচির সতত স্বাগত সুর! প্রচণ্ড চিৎকার নয় কিংবা নয় মিনমিনে কান্না! শান্ত, অবারিত, মন ভোলানো কিন্নরী সম্ভাষণ। চিন্তা করা যায়, কী একটা পরিবেশ এখানে সব সময় বিরাজমান থাকে! কাওয়াগুচি লেকে একজন ভ্রমণকারী চাইলে লেকের স্বচ্ছ নীলাভ পানিতে স্পিড বোটে করে ঘুরে বেড়াতে পারেন। কিছুদূর পর পর বোট নোঙর করার জন্য ছোট ছোট জেটি এখানে বেশ মানানসই করে নির্মাণ করা হয়েছে। জেটিতে হাঁটাকালীন হালকা দুলুনিও বেশ লাগে।

কিছুক্ষণ এখানে থাকার পর আমরা পরবর্তী পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। পথিমধ্যে দেখি কিছু মানুষ সময় নিয়ে বড়শি পেতে মাছ ধরছেন লেকে! পথ চলতে চলতে আমরা এরপর পৌঁছাই ঐশি পার্ক পয়েন্টে! ফুজি সানের আরও কাছাকাছি! এখানে এসে অবাক হয়ে দেখি প্রকৃতির বিশালতার কাছে, ফুজি সানের অস্তিত্বের কাছে আমি নিজে কত ক্ষুদ্র! আমার সামনে বিশাল পানির সাগর, নিস্তব্ধ পরিবেশে বাতাসের ছুটে চলা আর পানির ঢেউয়ের মৃদুমন্দ কলরব যেন এক পবিত্র অনুভূতিতে ছেঁয়ে গেছে আমার মন! ফুজির চারপাশই পাহারে পাহারে ঘেরা। কিন্তু ফুজির শান্ত, সৌম্য, জড় চেহারাতেই একটা অলিখিত রাজসিক সৌন্দর্যের প্রকাশ রয়েছে। অসীম শূন্যতার মাঝে বিশালত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ঐশি ভঙ্গিমাই ফুজি সানকে অন্য সবার থেকে করেছে আলাদা। চোখ পড়তেই বিশালতার মাঝে শূন্যতার অনুভূতি আমার মনকে নাড়া দেয়! অবাক চোখে তাকিয়ে রই ফুজি সানের দিকে।

ঐশি পার্ক পয়েন্টে এসে দেখলাম, সবাই এখানকার বিখ্যাত আইসক্রিম শপ থেকে আইসক্রিম কিনছে। এরপর আইসক্রিমসহ ফুজি সানের সাথে ছবি তুলছে। আমিও ব্যতিক্রম করলাম না। আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা দুজন দুটি কোণ আইসক্রিম কিনে ছবি তুলি মহামতি ফুজি সানের সাথে। দেখলাম সবাই ছবি তোলার পর লেকের পাড়ে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে আর ফুজি সানের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। পাড়জুড়ে সারি সারি আসন পাতা আছে। আর সবার মতো আমিও দুটি আসন বেছে নিয়ে বসে পড়লাম। এখন মধ্যাহ্ন পেরিয়ে অপরাহ্ণ ছুঁই ছুঁই। হাতে আইসক্রিম, দূরে ফুজি সান। সূর্যের উষ্ণতাও বেশ কমে এসেছে। শীতল বাতাসে ঠান্ডা আইসক্রিমসহ আপনজনের সান্নিধ্য আর পরিবেশের বিশালতা! বলতে গেলে চারদিক একেবারে খোলা, নেই নাগরিক স্পর্শ! আদি অকৃত্রিম পরিবেশের আপন করে নেওয়া ছোঁয়ায়, কোথায় যেন নিজেরই অজান্তে নিজের দর্পশূন্যতার আর্তনাদ শুনতে পাই! আহা জীবন! প্রকৃতির বিশালতায় কত ছোট, কত ক্ষুদ্র! কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ণনায়, ফুজি সান যেন সীমার মাঝে অসীম সুরে, আপনার প্রকাশ ছড়িয়ে তুলছেন অগণিত দর্শনার্থীর হৃদয়ে। কবির ভাষায়, ‘সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর-/ আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর।’

পড়ন্ত এই বেলায় আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ফিফথ স্টেশন। প্রায় ঘণ্টাখানেক গাড়ি চালনার পর আমরা পৌঁছাই এই বিশেষ স্থানটিতে। গহীন আঁকা-বাঁকা, উচুঁ-নিচু পথ। গাড়িতে করে এ পর্যন্তই আসা যায়। বলা যায়, ফুজি সানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় আমরা চলে এসেছি। এরপর আরও উঠতে চাইলে অথবা ফুজি শৃঙ্গে পৌঁছাতে চাইলে, যেতে হবে পায়ে হেঁটে। গাড়ি থেকে নেমে চারদিকে একটু তাকাতেই মনে হলো, যেন মেঘের সাগরে দাঁড়িয়ে আছি। বেশ ঠান্ডা, শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে। ঘণ্টাখানেক আগে, লেকের ধারে কিন্তু এত ঠান্ডা অনুভব করিনি। বেশ দূরে অনেক নিচে পাহাড়ের পাদদেশ। মজার বিষয় হলো, স্থানটিতে এসে দেখলাম, মাটি এখানে বেশ রুক্ষ! যেন পোড়া ঝলসে যাওয়া মাটির বিশাল উঁচু ঢিবি! মনে হচ্ছে, পরিবেশ কেমন যেন বিষণ্ন আর ক্ষুব্ধ! ঐশি পার্ক থেকে যেমন দেখছিলাম, তার সাথে কেমন যেন মেলানোই যাচ্ছে না।

রূপের এই অবাক করা রূপান্তর আমায় ভীষণ অবাক করেছে। একেবারেই অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই ফিফথ স্টেশনের উচ্চতা প্রায় ২,৩০০ মিটার। পর্বতারোহীদের জন্য এখানেই সর্বশেষ মাউন্টেন হাট বা সহায়তা কেন্দ্রটি অবস্থিত। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার লেখনীতে যেভাবে চমৎকার উপমা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘এখন আমি একটা পাহাড় কিনতে চাই। সেই পাহাড়ের পায়ের কাছে থাকবে গহন অরণ্য, আমি সেই অরণ্য পার হয়ে যাব, তারপর শুধু রুক্ষ কঠিন পাহাড়। একেবারে চূড়ায়, মাথার খুব কাছে আকাশ, নীচে বিশাল পৃথিবী, চরাচরে তীব্র নির্জনতা।’ কবিতাটির এরূপ বর্ণনার একটি অবাক করা চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে ফিফথ স্টেশন পরবর্তী ওপরের দিকের নিস্তব্ধ পরিবেশে। কী বিপুলা পৃথিবী। আর কী অসীম নির্জনতা ফুজি সানের চারপাশ ঘিরে!

fuji sun

এখানে এসে আরও জানলাম, এ স্থান থেকে ওপরের দিকে পাহাড়ের গায়ে আর গাছ জন্মে না। এটিকে একাডেমিক ভাষায় বলা হয় ‘ট্রি লাইন’। ট্রি লাইনের বাংলা প্রতিশব্দ হতে পারে বৃক্ষরেখা। এটি এমন একটি রেখা যা মূলত বসবাসযোগ্য এলাকার প্রান্তসীমা নির্দেশ করে। অর্থাৎ এ স্থান থেকে ওপরের দিকে আর গাছ বেড়ে উঠতে সক্ষম হয় না। সাধারণত উঁচু পাহাড়ি এবং মালভূমি অঞ্চলে এমনটি দেখা যায়। এ নির্দিষ্ট স্থানের ওপরে বৃক্ষরাজি পরিবেশগত নিয়ামক যেমন- চরম ঠান্ডা তাপমাত্রা, প্রচুর তুষারপাত বা প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার ঘাটতি সহ্য করতে পারে না। বৃক্ষরেখাকে কখনো কখনো আবার ‘লোওয়ার টিম্বার লাইন’ থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়। উঁচু পাহাড়ে লোওয়ার টিম্বার লাইনের নিচের বেড়ে ওঠা বৃক্ষরাজি সাধারণত বন্ধ ছাউনির মতো বেড়ে ওঠে একটি ঘন আবদ্ধ বনের মতো পরিবেশ তৈরি করে থাকে। এরপর থেকে ওপরের দিকে ধীরে ধীরে বৃক্ষরাজির ঘনত্ব এবং উচ্চতা কমতে থাকে এবং একসময় বৃক্ষরেখা বরাবর নিজের বিকাশ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। উঁচু পর্বতমালায় ট্রি লাইনের এ দৃষ্টিগ্রাহ্য বিষয়টি বেশ স্পষ্টভাবেই চোখে ধরা পড়ে। মূলত একটি অতি উঁচু পর্বতমালার স্থায়ী তুষার রেখার ৩০০ থেকে ১০০ মিটার নিচে মোটামুটি সমান্তরাল উচ্চতায় বৃক্ষরেখার অবস্থান হয়ে থাকে। তবে এ জটিল অঙ্কের হিসেবে না গিয়ে বরং খালি চোখে যে কোনো অতি উঁচু পাহাড়ের দিকে তাকালেই বিষয়টি ধরা পড়বে। হিমালয়, আল্পস কিংবা অন্য যে কোনো অতিশয় বিশাল পর্বতমালার জন্যই বিষয়টি সমানভাবে প্রযোজ্য। আমাদের দেশে ট্রি লাইন দৃশ্যমান এমন কোনোও পাহাড় আছে কি না, আমার ঠিক জানা নেই। কারণ পাহাড়ের ট্রি লাইন দৃশ্যমান হবে কি না, তা পাহাড়ের উচ্চতার ওপর নির্ভর করে।

দিনব্যাপী ফুজি সানের আশপাশটা ঘুরে, দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে, কিছুটা ইন্টারনেট ঘেটে, এটি বুঝতে পেরেছি, ফুজি সানের সৌন্দর্য সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। ফুজি সান এবং এর আশপাশ, কাছ থেকে কোন রঙে দেখবেন সেটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে বছরের কোন সময়টিতে ফুজি সানের কাছে গিয়েছেন তার ওপর। কারণ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় ফুজি সানের রূপ-লাবন্য। আবার বছরের যে কোনো দিন গিয়েই ফুজি সানকে দেখতে পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও কিন্তু কখনোই দেওয়া যায় না। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে মেঘের আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখে ফুজি সান। তবে রৌদ্র উজ্জল দিন হলো ফুজি সানের সৌন্দর্য দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময়ে লেক কাওয়াগুচির নীলাভ জলরাশিতে ফুটে ওঠে ফুজি সানের স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি!

ফুজি সানে এসে মনে হয়েছে, যদি কখনো মন খারাপ হয়, তাহলে সম্ভব হলে উঁচু পাহাড়ের শীর্ষে গিয়ে দাঁড়ান। এরপর নিচের দিকে তাকিয়ে দেখুন। কী দেখছেন? কিছু কী বুঝতে পারছেন? নিচে অসংখ্য জীবনের সম্ভার! কলরব, কোলাহলে পূর্ণ পরিবেশ! কিন্তু স্পষ্টভাবে নিজ চোখেই ধরা পড়ে নিচের জীবনকূলের অস্তিত্বের একটি ক্ষুদ্রতর আনুপাতিক প্রকাশ! কত খুনসুটি, কত আনন্দ, কত বেদনার উচাটন ভাগাভাগি, অথচ মাটি থেকে একটু উঠে, ওপর থেকে ফিরে দেখতেই ঘটে অনুভূতির ব্যাপক ব্যবধান! কত ক্ষুদ্র আমাদের বাস্তব সত্তা! গাছগুলো যেন শলার কাঠি, পাখি যেন উড়ে যাওয়া বিন্দু কনা, আর নদী যেন দেওয়ালে লেখা খোকার হাতের হিজিবিজি রেখা! পাহাড়ের উচ্চতায় বসে অবস্থানজনিত বিরোধের কারণে দেখার হিসেব-নিকেশের এই যে গড়মিলের হালখাতা, এটি জীবনকে দিতে পারে এক নতুন দিশার আলো। অহংহীন বোধের সে আলোয় আলোকিত হোক জীবন। ঘটুক নতুন শিখনের ঈপ্সিত স্ফুরণ!

জাপানের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ ফুজি সান নিয়ে অনেক কথা লিখছি। এবার শেষ করবার পালা। টোকিও মহানগর থেকে ফুজি সানের দুরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। চাইলে দিনে দিনেই টোকিও থেকে ফুজি সান ঘুরে আসা যায়। ট্যুরিস্ট বাসে করে অথবা ড্রাইভিং জানা থাকলে গাড়ি ভাড়া করেও যাওয়া যায়। আমি একদিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে গিয়েছিলাম। তবে ফুজি সানের সৌন্দর্যের পূর্ণ অবগাহনের জন্য একটু সময় নিয়ে যেতে পারলে আরও ভালো। প্রতিটি লেকের প্রতিটি পয়েন্টে বসে আরও সময় নিয়ে ঘুরে দেখতে পারলে পাবেন আরও বেশি আনন্দ। প্রকৃতির অকৃত্রিমতা, বিশালতা আর অসীম সৌন্দর্যের কাছে নত হবে নিজস্ব ক্ষুদ্রতা।

ফুজি সানে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে পাহাড় মানেই প্রকৃতির বিশালতা আর সৌন্দর্যের অপূর্ব মিলনজগৎ। পাহাড় মানে উচ্চতার সাগরে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্রতার উপলব্ধি। পাহাড়ের সবুজ-শ্যামলিমা, ঝর্ণার গান, পাখির কিচিরমিচির, আঁকাবাঁকা পথ, মানুষের পরিশ্রমী জীবন আর নৈমিত্তিক পথচলা সবই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, পৃথিবীর শুদ্ধতম নীরবতা পাহাড়ে এসে জমা হয়। তাই প্রাত্যহিক পাওয়া না পাওয়ার ব্যস্ত নগর জীবনকে ছুটি দিয়ে, নিজের সত্তার পবিত্রতার খোঁজে পাহাড়ের বুকে নিটোল প্রকৃতির কাছে যাওয়া আত্মিক শুদ্ধির জন্য একটি শ্রেয়তর ঠিকানা। কিন্তু আমাদের অনাগত সন্তানদের জন্য আমাদের দেশে আমার জন্মভূমিতে আমার বাংলাদেশে পাহাড়ের এমন অকৃত্রিমতা, এমন অবয়ব, আদিম রূপের ঠিকানা আমরা কী অবশিষ্ট রাখছি? আশা জাগানিয়া উত্তর কেউ কী আমায় দেবেন!

লেখক: জাপানে বসবাসরত গণমাধ্যমকর্মী এবং লেখক।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।