ভরা মৌসুমেও পর্যটকশুন্য আরশিনগর ফিউচার পার্ক

এম মাঈন উদ্দিন
এম মাঈন উদ্দিন এম মাঈন উদ্দিন , উপজেলা প্রতিনিধি, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০১:৪৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে ভরা মৌসুমে পর্যটকশুন্য চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র আরশিনগর ফিউচার পার্ক। চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকে পর্যটক একেবারে কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মালিক।

জানা গেছে, ৯ বছর আগে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১২ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে। বিনোদনের কথা চিন্তা করে পার্কটি গড়ে তোলেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন দিদার।

আরও পড়ুন: যে দেশে ট্রলি ব্যাগ নিয়ে গেলেই গুনতে হবে জরিমানা

সেখানে আছে থাকার জন্য কটেজ, খেলার রাইডার, বেবি শপ, চকোলেট শপ, রেস্টুরেন্ট, ফুডজোন, কৃত্রিম লেক, কমিউনিটি সেন্টার, মুক্ত মঞ্চ, রেস্টুরেন্ট’সহ অনেক রাইড আছে। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের জন্য অন্যতম স্পট এটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একটা সময় পার্কের মূল গেইটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ফাঁকা থাকতো না। সেখানে রাখার পর মহাসড়কের পাশেও গাড়ি পার্কিং করা হতো। অথচ ওই পার্কিংয়ে মাত্র দুটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে প্রবেশের পর হাতেগোনা কয়েকজন পর্যটক চোখে পড়েছে।

বসে বসে অলস সময় পার করছেন এখানে কর্মরত কয়েকশ’ কর্মচারি কর্মকর্তা। একটা সময় মহাব্যস্ততায় থাকতেন তারা, এখন খোঁশ গল্প করে দিন কাটছে। রেস্টুরেন্ট, কুলিং কর্নার’সহ শপগুলোতে কোন বেচাকেনা একেবারে কম। শিশুদের বিভিন্ন রাইড পড়ে আছে। নেই শিশুদের আনাগোনা।

আরও পড়ুন: এই শীতে ঘুরে আসুন মহামায়া ও বাওয়াছড়ায়

টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নূনতম ৩০০ থেকে ৪০০ টিকেট বিক্রি হতো। ছুটির দিনে আরো অনেক বেশি লোক আরশিনগর বেড়াতে আসতো। অবরোধের কারণে এখন ১০০ টিকিটও বিক্রি হচ্ছে না। প্রতি টিকিট ১০০ টাকা। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য টিকেট লাগে না।’

কুলিং কর্নারের দায়িত্বে থাকা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হতো। এখন দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয় না। অবরোধের কারণে লোকজন শিশুদের নিয়ে আসতে পারে না। পর্যটক আসলে বেচাকেনা হতো।’

মুরাদ হাসান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘অন্যরকম আরশিনগর দেখছি। পর্যটকদের পদচারনায় মুখর থাকা পার্ক এখন শুনসান নিরব। লোকজন নেই বললে চলে। আমার এক বন্ধু বিদেশ থেকে এসেছে তাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছি।’

আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ, জনসংখ্যা ৫০ জনেরও কম

আরশিনগর ফিউচার পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন দিদার বলেন, ‘৯ বছর আগে ১২ একর জায়গায় মানুষের বিনোদনের কথা চিন্তা করে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য পার্কটি করেছি। আমার মেয়ে আরশি’র নামে নামকরণ করা হয়েছে পার্কটির। প্রতিষ্ঠার পর বড় ধাক্কা খেয়েছি করোনাকালে।’

‘সে ধাক্কা সামলানোর আগে এবার ধাক্কা খেলাম বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের কারণে। এখানে বাইরে থেকে অনেক পর্যটক আসে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসে। কিন্তু অবরোধের কারণে লোকজন আসছেনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে ২৮৫ জন কর্মচারি কর্মকর্তা আছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটনের ভরা মৌসুম। এ সময় প্রচুর পর্যটক বেড়াতে আসেন। পর্যটক নেই বললে চলে। ২৮৫ জনের বেতন, খাওয়া’সহ প্রতিদিন আমার খরচ হয় আড়াই লাখ টাকা। অবরোধ হরতালে বড় অংকের ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয়েছি।

এমএমডি/জেএমএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।