বাল্য বিবাহ নিরসনে সকল স্তরের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন
বাল্য বিবাহ নিরসনে শিশুর পিতা-মাতা, পরিবার, সমাজ ও দেশ সকল স্তরের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বাল্য বিবাহ নিরোধকল্পে সুশীল সমাজ, এনজিও এবং দাতা সংস্থার সরকারের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তাহমিনা বেগমের সভাপতিত্বে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৫ (খসড়া) পর্যালোচনা শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম। কর্মশালায় স্বাগত বক্তৃতা রাখেন- মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আবুল হোসেন। এছাড়া কর্মশালায় ইউএনএফপিএ এবং ইউনিসেফ প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।
সচিব নাসিমা বেগম বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নীচে বিয়ে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল ও ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বিয়ের হার এক তৃতীয়াংশ হ্রাস এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্য বিয়ে সম্পূর্ণভাবে দূর করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, দারিদ্রতা ও অসচেতনতা বাল্য বিবাহের অন্যতম কারণ। এ ব্যাপারে মা-বাবা ও সমাজকে সচেতন করে তুলতে না পারলে কাঙ্খিত সাফল্য আসবে না।
প্রতিটি উপজেলা ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত কিশোরী ক্লাব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কন্যা শিশুকে লেখাপড়ার উপযুক্ত পরিবেশ দিয়ে তাকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে, তারা নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। মা-বাবাকে তারাই বুঝাতে সক্ষম হবে।
শতভাগ জন্মনিবন্ধনের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সকল কন্যা শিশুর জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে কোনভাবেই ১৮ বছরের নিচে কারো বিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।
যুগ্মসচিব তাহমিনা বেগম বলেন, বাল্য বিবাহ শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। এটা উন্নয়ন পরিকল্পনার উপর সুদুর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার এই দশকের মধ্যে বাল্য বিবাহ দূরীকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আরএস/আরআইপি