ওয়েবিনারে বক্তারা
বজ্রপাত থেকে রক্ষায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন
বজ্রপাত বর্তমানে একটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বজ্রপাতে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতি এখনো অনেক কম। কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচিতে বিষয়টি খুব কমই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বুধবার (১৪ মে) ‘বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্লোবাল সাউথের স্থানীয় ও জাতীয় মানবিক সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক এবং গ্র্যান্ড বার্গেইন স্বাক্ষরকারী অ্যালায়েন্স ফর অ্যামপাওয়ারিং পার্টনারশিপ (এফোরইপি), বাংলাদেশের কোস্ট ফাউন্ডেশন, ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ), ক্লাইমেট রেজিলেন্ট অবজারভিং সিস্টেমস প্রমোশন কাউন্সিল (সিআরওপি-সি) ও হিউম্যানিট্রাশেন এইড ইন্টারন্যাশনাল (এইচএআই) যৌথভাবে এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ঝুঁকিগুলোর মধ্যে বজ্রপাত একটি অন্যতম দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে, বাংলাদেশ ও নেপালে বজ্রপাতে মৃত্যুহার ও ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ভারতেও বজ্রপাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বক্তারা বজ্রপাত মোকাবিলায় স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, কমিউনিটি-ভিত্তিক ঝুঁকি হ্রাস প্রটোকল, জনসচেতনতা, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং সরকার-এনজিও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
‘বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অতিথিরা/ছবি: সংগৃহীত
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআরওপি-সি’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) সঞ্জয় শ্রীবাস্তব। বজ্রপাতজনিত মৃত্যু কমাতে আগাম সতর্কতা ও কমিউনিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বজ্রপাতের ঘটনাও বাড়ছে এবং তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বজ্রপাতের ঘটনা ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তিনি কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, স্থানীয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর এবং শক্তিশালী জলবায়ু অভিযোজন নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বা নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পরামর্শ দেন। বজ্রপাত ঝুঁকি হ্রাসে কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান কর্নেল (অব.) সঞ্জয় শ্রীবাস্তব।
নেপাল, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন থেকে মোট ৭০ জন অংশগ্রহণকারী এই ওয়েবিনারে অংশ নেন। তারা বজ্রপাতের সময় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর সাড়া ও চিকিৎসা প্রোটোকল উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন ওয়েবিনার অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং এইচএআই’র জাহাবিয়া ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. শাহিনুর ইসলাম আলোচনার সুপারিশসমূহ উপস্থাপন ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ইএইচটি/এমএমকে