মাগুরায় মধু চাষে বাবা-ছেলের বাজিমাত
সরিষা ফুল থেকে মধু চাষ করে বাজিমাত করেছেন আল আমিন ও তার বাবা সাবু মোল্লা। মাগুরা সদরের ডেফুলিয়া গ্রামে সরিষা ক্ষেতে মৌ-বক্স পেতে মধু সংগ্রহ করছেন তারা। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন খাদিজা মৌ খামার। মাঠে মাঠে বাতাসে দোল খায় সরিষা ফুল। সেই ফুল থেকে তৈরি হয় মধু।
মৌচাষি বাবা সাবু মোল্লা জানান, মাগুরার মাঠে মাঠে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। সরিষা ক্ষেতের পাশে বক্স পেতে মধু সংগ্রহ করেন। এবার সদরের ডেফুলিয়া গ্রামে ৯০টি বক্স পেতেছেন। সংগ্রহের কাজে ৬ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন। মৌমাছির পরিচর্যা, খাবার দেওয়ার কাজ করেন তারা। প্রতি সোমবার বক্স থেকে মধু উত্তোলন করা হয়। সপ্তাহে ২-৩ মণ মধু সংগ্রহ করা যায়।

ছেলে আল আমিন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানের বেপারিরা এসে তাদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করেন। প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এই মধু শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, দিনাজপুর, ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ চট্টগ্রাম জেলায় বিক্রি করা হয়। এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধু বিক্রি করেছেন। শুধু সরিষা ফুলের মধু নয়; তারা ধনিয়া, কালোজিরা ও লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করেন।
আরও পড়ুন
শার্শায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা চাষ
সরিষায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন পাবনার কৃষকেরা
আল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন লিচু বাগান থেকে মধু সংগ্রহ করি। একেক ফুলের মধু একেক রকম হয়ে থাকে। কোনো মধু গাঢ়, আবার কোনো মধু পাতলা হয়ে থাকে। তবে সরিষা ফুলের মধু খুব পরিষ্কার হয়ে থাকে। কালোজিরার মধু অনেক সময় ওষুধে ব্যবহার করা হয়। আমরা মধুতে চিনি মিশাই না। তাই আমাদের মধুর চাহিদা ও গুণাগুণ খুব ভালো।’

সাবু মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘অগ্রহায়ণ মাস থেকে আমাদের মধু সংগ্রহের কাজ চলে। বছরের বাকি সময় আমরা সুন্দরবন অঞ্চলে মধু সংগ্রহের কাজ করি।’
মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এসইউ