ভৈরবে ধানের দামে কৃষকরা হতাশ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১২:০৮ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নতুন ধানের বাজার মূল্য কম থাকায় হতাশ কৃষকরা। এ দামে তাদের উৎপাদন ব্যয়ও উঠবে না বলে জানান একাধিক কৃষক। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের হাওর এলাকা থেকে প্রতিদিন ভৈরব বাজারে হাজার হাজার মণ নতুন ধান আসছে। তবে দাম খুবই কম।

এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। তবে বৈশাখের শুরুতে হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা। ধান কাটতে দিনমজুরের প্রতিদিনের মজুরি ৬০০-৭০০ টাকা।

জানা যায়, ভৈরব বাজারে প্রতিমণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা। তবে চিকন ধানের বাজার দর ৫০০ টাকা। কৃষকরা বলছেন, প্রতিমণ ধান উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা। বর্তমান বাজার দরে ধান বিক্রি করে কৃষকরা লোকসানে পড়ছে।

ইটনা উপজেলার কৃষক রমিজ মিয়া বলেন, ‘ধান কাটার মজুরিসহ বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচে প্রতিমণ ধান উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করে তা উঠানো যাচ্ছে না। লোকসানে ধান বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করব কিভাবে বুঝতে পারছি না।’

ভৈরবের আড়ৎদার এমএ মান্নান জানান, প্রতি বছর বৈশাখ মাসে নতুন ধানের দাম কমই থাকে। কারণ এখন আমদানি করা ধান আধা শুকনা ও ভেজা। পুরোপুরি শুকনা ধান এখনো আমদানি শুরু হয়নি। কৃষকরা জমিতে ধান কাটার পর আধা শুকনা ধান বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে আসছে।

আড়ৎদার মো. আলী হোসেন জানান, আশেপাশের রাইস মিলগুলো এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। সরকারি গুদামগুলো নতুন ধান কেনা শুরু করেনি। মে-জুন মাসে সরকার নতুন ধান কেনা শুরু করলে ধানের দাম আরও বাড়বে।

ভৈরব খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবির জানান, ধানের বাজার দর এখন কম হলেও সরকারি গুদামগুলোতে নতুন ধান কেনা শুরু হলেই বাজার দর বেড়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এবার হাওরে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক লাখ টন ধান কৃষকের ঘরে উঠবে। তবে বাজার দর কম থাকাটা দুঃখজনক।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এসইউ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :