সবজি চাষ করে বছরে ৬ লাখ টাকা আয়

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০২০

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের শত শত কৃষক শীতকালীন সবজি চাষে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছেন। স্থানীয় কৃষকরা সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করে করোনাকালীন সময় অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠছে পাশাপাশি জেলাবাসীর চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলছে।

আমন ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামটাও এবার বেশি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মনে আনন্দের আমেজ। আগাম শীতের সবজি উৎপাদন করে বাজারজাত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে দিন দিন সবজি চাষিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

Vagetabale-(5).jpg

সরেজমিনে দেখা যায়, কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, মজিদপুর, এলেমপুর, বাইনতলা, ফরিদগঞ্জ ও ছোট কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা দু্ইশত একর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করছে। এছাড়াও বাড়ির আনাচে-কানাচে খালি জায়গায় শীতকালীন সবজি চাষ কিংবা চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। আমন ধান কাটার পর পরই তারা বিভিন্নরকম সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

কোনো কোনো কৃষক সারা বছর সবজি উৎপাদন করার জন্য বেড তৈরি করে রাখেন। তারা সবজি ছাড়া আর কোনো কিছুই উৎপাদন করেন না। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিজেদের কর্মসংস্থান ও বিষমুক্ত বিভিন্নরকম সবজি চাষ করে স্থানীয় বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

Vagetabale-(5).jpg

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা জানা যায়, কুমিরমারা, সোনাতলা, বাইনতলার গ্রামের কৃষকরা ২ হাজার একরেরও বেশি জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং করোনার সময় আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন। কৃষকরা বেগুন, পাতাকপি, বাঁধাকপি, লাউ, লালশাক, শশা, মিষ্টিকুমরা, কলমিশাক, ডাটাশাক, ধনিয়াপাতা, শিম, বরবটিসহ বিভিন্নরকম সবজি চাষ করে।

কুমিরমারা গ্রামের সবজি চাষি মো.শাহজাহান মৃধা বলেন, আমি ১৫ বছর বয়স থেকেই সবজি চাষ শুরু করেছি। আমার ২ একর জমিতেই সবজি চাষ হচ্ছে। আমি বছরে ৫-৬ লাখ টাকা শুধু সবজি চাষ করার মাধ্যমেই আয় করি। এবারে সবজির বাজার অনেক ভালো। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছি।

Vagetabale-(5).jpg

বাইনতলা গ্রামের কৃষক মো. রফিক বলেন, আমরা সব সময়ই আগাম সবজি উৎপাদন করার চেষ্টা করি। আমি ১ একর জমিতে সব সময় সবজি উৎপাদন করি। আমি সবজি উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো কাজ করি না। মৌসুম শুরুর দিকেই আমি প্রায় ৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট নাসির মাহমুদ বলেন, সবজির গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা অধিকাংশ কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিই উপজেলার চাহিদা মেটায়।

Vagetabale-(5).jpg

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কুমিরমারা গ্রামসহ অন্যান্য কৃষকেরা সবজি উৎপাদন করে করোনার সংকট কাটিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে এখানকার কৃষকদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও জেলার বিভিন্ন বাজার বাজারজাত করা হয়। আমরা বিভিন্নভাবে সাহায্য ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছি।

কাজী সাঈদ/এমএমএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]