হানিকুইন জাতের আনারস চাষে সফল রাবির গবেষকরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনোমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগে ক্রাউন টিস্যু পদ্ধতিতে হানিকুইন জাতের আনারস চাষে সফলতা পেয়েছেন গবেষকরা। দুজন এমএসসি এবং একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর অধীনে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। যেখানে টিস্যু থেকে চারা এবং তা পরিচর্যার মাধ্যমে পরিপূর্ণ গাছে রূপান্তর করা হয়েছে। ১৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো টেকনোলজি ল্যাবে হানিকুইন জাতের এই পরিপক্ব আনারস সংগ্রহ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনোমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এগ্রো টেকনোলজি ল্যাবে আমাদের একটি টিস্যু কালচারাল ইউনিট এবং একটি নেট হাউজ আছে। হানিকুইন জাতের আনারসের একটি জাতের মাদার প্লান্ট থেকে আমরা টিস্যু কালচার করেছি এবং এখানে মেইনটেনেন্স করছি। জাম্প প্লাজম এ বছর দিয়ে দ্বিতীয় বছরে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর তিনটি এবং এ বছর ২১টি আনারস হারভেস্ট করেছি। এর একটি সুবিধা হচ্ছে এরাবল ল্যান্ড ছাদ বাগানে অথবা বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় আবাদযোগ্য। এর জন্য খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। এর ড্রিপ ইরিগেশন টানেল আছে এবং পাইপ থেকে সেলফ ওয়াটারিং স্ট্রিপের মাধ্যমে নিউট্রিয়েন্ট এবং ওয়াটার নিচ্ছে। আমরা এটি ক্রাউন থেকে শুরু করেছিলাম।’
চারা উদ্ভাবনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতে সাকার ব্যবহার করে চারা তৈরি করেছি। আনারসের ভেতরের ছোট ক্রাউন এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার সাইজের টিস্যু থেকে আমরা শুরু করি। সেটা থেকে ডিরেক্ট এবং ইনডিরেক্ট রি-জেনারেশন হয়ে থাকে। রি-জেনারেটেড যে চারাগুলো হয়, সেটা খুবই ছোট আকৃতির হয়ে থাকে। একটি অংশে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত চারা হয়। চারাগুলো যখন একটু বড় হয়; তখন একে আমরা আলাদা পটে ট্রান্সফার করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় যেখানে বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং যেখানে মাটির পিএইচ কম হয়; সেখানে এটি চাষ হয়। আমরা যদি সেই মাটির পিএইচ মেইনটেইন করে কনভিশনটা ঠিক রাখতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের সব জায়গায় আনারস চাষ করা সম্ভব। আমাদের গবেষণা শেষ হলে বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চাইবো। যাতে একে বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, ‘এই জাতের আনারস সম্পূর্ণ অর্গানিক এবং এতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু বা অনিরাপদ চাষাবাদের প্রভাব নেই। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হওয়ায় এর স্বাদও অসাধারণ। বাজারে সাধারণত যে আনারস পাওয়া যায়, এর সঙ্গে এই আনারসের স্বাদ ও গুণগত মানের স্পষ্ট পার্থক্য আছে।’
তিনি বলেন, ‘অসাধারণ গবেষণা হয়েছে। আমরা ল্যাব পরিদর্শন করেছি। সেখানে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে কীভাবে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, তা দেখেছি। পরে সেগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ করে বাজারে সরবরাহ করা হবে। এটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের আনারস চাষ করা সম্ভব হলে দেশের বাইরেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এর গুণগত মান সত্যিই চমৎকার।’
এসইউ