শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ধর্ষক গ্রেফতার


প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় সহপাঠিকে ধর্ষণের ঘটনায় শত শত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩টার দিকে ধর্ষক সুমন তালুকদারকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়। সুমন তালুকদার উপজেলার চাঙ্গুরিয়া গ্রামের লতিফ তালুকদারের ছেলে।

এর আগে দুপুরে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে নারায়ণপুর পল্লি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ শত শত শিক্ষার্থী গুঠিয়ার নারায়নপুর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে বিচারের দাবিতে সংক্ষিপ্ত সভা করে। এসময় সুমন তালুকদারের গ্রেফতারপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অলি আহাদ সকলকে শান্তনা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এরপরই সুমন তালুকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গুঠিয়া নারায়নপুর স্কুলের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিক অনুষ্ঠান শেষ করে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চাঙ্গুরিয়া বড়বাড়ী মোহাম্মদ হাওলাদারের স্ত্রী আলেয়া ওরফে ফুরফুরি বেগম মোবাইলের মেসেজ মুছানোর কথা বলে ঘরে ডেকে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। বাড়িতে কোনো লোকজন না থাকায় মেয়েটির অত্মচিৎকার করেও কেনো সাড়া পায়নি।

কিছুক্ষণ পর সুমন তালুকদার তালা খুলে ঘরে ঢুকে মেয়েকে চাকু দেখিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। বাহির থেকে আলেয়া বেগম এই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। পরে সুমন কাউকে না বলার জন্য মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওইদিন মেয়েটি তার নানিকে বিষয়টি বলে এবং তার বাবা ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার কারণে মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকেও অবহিত করে। ছাত্রীর বাবা সকালে শিক্ষকদের বিষয়টি জানানোর জন্য মেয়েটিকে নিয়ে স্কুলে রওনা হন।

পথিমধ্যে রহমালী স্কুলের পাশের দোকানের পিছন থেকে সুমন তালুকদার পথরোধ করে মেয়েটিকে শ্লীলতাহানি ও তার বাবাকে লাঞ্ছিত করে।

/
বিষয়টি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। দুপুরের দিকে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল আলিম, মোফাজ্জেল সরদার, ক্লাবের সদস্য রেজাউল, শিক্ষক রাজ্জাক, মহসিন, সিদ্দিক, ফিরোজা খানম প্রমুখ।

এ ঘটনার পর বিকেলে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ গিয়ে উপজেলার তেরদ্রোণ গ্রামের মাদক বিক্রেতা ও জুয়ারি আনিচের ঘরে জুয়া খোলারত অবস্থায় সুমনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া সন্ধ্যায় চাঙ্গুরিয়া গ্রামের এক গৃহবধূ  বাদী হয়ে সুমনের বিরুদ্ধে আরো একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ধর্ষককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা দুইটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বখাটে সুমন তালুকদার ইতিপূর্বে একটি প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করে এক লাখ টাকা জরিমানা দেয়।

সাইফ আমীন/এআরএ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।