চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী ভিসি-প্রোভিসি পদে আলোচনায় যারা
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য থেকে পদত্যাগ করেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও উপ-উপাচার্য (একাডেমিক)। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে উপাচার্য হিসেবে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়াকে সাময়িক সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই নিয়োগে সাময়িক সময় বলা হলেও প্রায় দেড় বছর পার হলেও তিনি এই পদে নিযুক্ত আছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
পদত্যাগ করলেন ঢাবি উপাচার্য
চবিতে শিক্ষক নিয়োগ তদন্তে দুদকের অভিযান
চবি উপাচার্যের পদত্যাগ চাইলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক
চবিতে ডিন নিয়োগের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতি
১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. নছরুল কাদির, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, চবি শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন গ্রহণযোগ্য উপাচার্য প্রয়োজন। বর্তমান উপাচার্য পদে সাময়িক সময়ের জন্য দীর্ঘদিন আগে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে তিনি জবাবদিহিতার মধ্যে ছিলেন না। দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এই প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সুশাসনের বদলে এখানে স্বেচ্ছাচারিতাই ঘটেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষকদের মধ্য থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী, গবেষণামুখী এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষককে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়নের বর্তমান প্রশাসন নিয়োগ নিয়েই ব্যস্ত থেকেছে বেশি, যেন এটি চাকরির পুনর্বাসন কেন্দ্র। ভিসি, প্রোভিসিরা কাজটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে করেছেন। তাদের কাজ ছিল শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করা। সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। কয়েকজন উপদেষ্টা ছিলেন চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। তাই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষম ফোরামের নেতাদের অভিযোগের বিষয় এবং দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন কি না? ‘এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহিয়া আখতার বলেন, আমরা আজও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি ভবন উদ্বোধন করেছি। সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানালেও তারা আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে কোনো তথ্য জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো হবে।’
এমআরএএইচ/এমআইএইচএস