ইবির দশতলা নতুন হলে অনুমোদনহীন টাইলস ব্যবহার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনির্মিত ছাত্র হল-১ (শহীদ আবরার ফাহাদ হল) এ অনুমোদনহীন পাথরের টাইলস (মার্বেল) স্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর টাইলসগুলো পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এমন অনুমোদনহীন টাইলস ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় লিফটের সামনের দেয়ালে পাথরের টাইলস লাগানো। এদিকে টাইলসের কাজ সাময়িক বন্ধ হওয়ায় হলটি হস্তান্তরের সময়ও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
একটি সূত্র জানায়, বিগত চারমাস আগে এই টাইলসগুলো লাগানো হয়। তবে কর্তৃপক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিল্যান্স টিম বারবার অবগত করলেও তারা পরিবর্তন করতে উদাসীন বলে জানান এক কর্মকর্তা। এমতাবস্থায় হলটির সিভিল সাইটের কার্যক্রম মাসখানেকের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এদিকে ইলেকট্রনিক সাইটের কার্যক্রমও চালু করা হয়নি। যার ফলে লিফটসহ অন্যান্য কার্যক্রম এখনও চালু হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ হোসেন বলেন, অননুমোদিত টাইলস ব্যবহার করা হলে এটি ভবিষ্যতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হবে। শুধু টাইলস নয় সবক্ষেত্রেই যাচাই-বাছাই করা উচিত। এখানে এক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করবে যদি ভেজাল জিনিস দিয়ে হলটি নির্মাণ হয় তাহলে সকল শিক্ষার্থীর জীবন হুমকিতে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
এই বিষয়ে ছাত্র হল-১ এর ম্যানেজার মো. আব্দুস সামাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই টাইলসগুলোর অনুমোদন ছিল না। পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো হয়েছিল। তবে প্রকৌশল অফিস সেগুলো পছন্দ না করায় তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে টাইলসের গুণগত মানে কোনো সমস্যা ছিল না, মূলত কর্তৃপক্ষের পছন্দের কারণেই তা ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
শুরু থেকে উক্ত টাইলসের অনুমোদন ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে আংশিক অনুমোদন ছিল। আংশিক অনুমোদন থাকার পরে লাগানো হয়। আমরা কোনো খারাপ জিনিস লাগাবো না ও আমাদের লাগানোর কোনো সুযোগও নেই। শীঘ্রই নতুন টাইলস আসবে ও প্রকৌশল অফিসের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা পুনরায় লাগানো হবে।’

তবে আংশিক অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা টাইলসের বিষয়ে কথা বলে এগুলো সরানোর ব্যবস্থা করেছি। টাইলসের বদলে মার্বেল টাইলস লাগানো হয়েছিল। এগুলো পূর্বে নিয়ে আসে ওরা কিন্তু আমরা অনুমোদন দেইনি। কোনো এক ছুটির দিন তারা এক জায়গায় এটা লাগিয়ে ফেলে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে ব্যবহৃত সাধারণ টাইলস ও মার্বেলের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মার্বেল একটি ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক পাথর, যেখানে সাধারণ টাইলস মাটি পুড়িয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম উপাদান। মার্বেল ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় এতে দ্রুত দাগ পড়ে ও অ্যাসিড বা ক্ষার জাতীয় পদার্থের সংস্পর্শে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। অন্যদিকে সাধারণ টাইলস দাগ প্রতিরোধী ও সহজে পরিষ্কারযোগ্য। প্রতিটি মার্বেল টাইলসের নকশা প্রাকৃতিক ও অনন্য হলেও সাধারণ টাইলসে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি সামঞ্জস্যপূর্ণ প্যাটার্ন পাওয়া যায়। ওজনে ভারী ও শীতল অনুভূতির মার্বেল মূলত বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে স্থায়িত্ব ও আঁচড় প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সাধারণ টাইলস অনেক বেশি কার্যকর।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, এই কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে এর আগেও বিভিন্ন জিনিস নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয়েছে। আমাদের অনুমোদন করা জিনিসের বদলে অনুমোদনহীন জিনিস লাগানো হয়, তদারকি করে নতুন করে আবার শুরু করতে হয়, যার ফলে কাজ আরো দীর্ঘায়িত হয়। এ বিষয়ে আমি কোষাধ্যক্ষ ও প্ল্যানিং ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলবো।
এমএন/এএসএম