গণভোটের প্রস্তাব জনগণ বোঝেনি- বিএনপির এমন দাবি ভিত্তিহীন: শিশির মনির
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, বাংলাদেশের পূর্ববর্তী গণভোটগুলোতে প্রশ্ন ছিল অস্পষ্ট, অথচ সাম্প্রতিক গণভোটে নির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ স্পষ্ট প্রশ্ন ছিল। গণভোটে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করে প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন (হ্যাঁ ভোট) দিয়েছেন, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। তাই জনগণ গণভোটের প্রস্তাব বোঝেনি-বিএনপি নেতাদের এমন দাবি ভিত্তিহীন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত সংস্কার আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক সংস্কার আলাপের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় আজ।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগর সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
এসময় শিশির মনির বলেন, সংসদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নয়; বরং সংবিধান ও জনগণই সর্বোচ্চ, যা সুপ্রিম কোর্টের রায়েও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে সংসদের মাধ্যমে আইন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ, এটি বিচার বিভাগ ও সংসদের মধ্যে সংঘাত তৈরি করছে। এরই মধ্যে কার্যকর কোনো আইন বা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ বাতিল করে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করা গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। একমাত্র জনগণের মতামত, বিশেষ করে গণভোট এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান দিতে পারে।
আরও পড়ুন
ভোট বর্জন নয়, ফলাফল নিয়েই ঘরে ফিরবো: জামায়াত প্রার্থী
উৎপাদন বন্ধ থাকলেও চালু ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট!
সংস্কার আলাপে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আমার রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতেও আমি এই চেতনা ধারণ করে এগোতে চাই। লাহোর প্রস্তাবের অপূর্ণতা যেমন ১৯৭১ সালে সংশোধিত হয়েছিল, তেমনই বাহাত্তরের সংবিধান ৭১-এর চেতনাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। ২০২৪-এর অভ্যুত্থান সেই বিচ্যুতি সংশোধনের একটি নতুন সুযোগ। ২০২৪-এর আন্দোলন ৭১-এর সেই মূল চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হয়েছে। অতীতে বিএনপির ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত শুধু বিএনপি নয়, বরং তাদের সমর্থক বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তিকেও দিতে হয়েছে। বিএনপিকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের যে রায় অর্থাৎ গণভোট বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের নতুন পথপ্রদর্শন করেছে। এটি ছাত্র-তরুণ প্রজন্মের সংগ্রাম ও ত্যাগের ফল। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলোকে আমরা অনুরোধ করবো, শহীদদের রক্তের দাগ যে মাটিতে লেগেছে, তার সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। জনতার ম্যান্ডেট মেনে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র কাঠামো শক্তিশালী করুন। আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক। ইনসাফমূলক, শক্তিশালী অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পুনর্গঠন হোক। এই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে নিজেদের জীবন উৎসর্গের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি, তবুও জুলাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা হতে দেবো না।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকারিয়া প্রমুখ।
আলোচনা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এফএআর/কেএসআর