গণভোটের রায় বাস্তবায়ন
ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর অনশন ৫০ ঘণ্টা পেরোলেও মেলেনি দাবি পূরণের আশ্বাস
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থীর আমরণ অনশনে বসার ৫০ ঘণ্টা পেরিয়েছে। কিন্তু দাবি পূরণে এখনো কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
অনশনরতরা হলেন—ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের অনশনের ৫০ ঘণ্টা অতিক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় শুয়ে আছেন তারা। পাশে থাকা সহপাঠীরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। তাদের প্রতি সংহতি জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা। এমনকি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতেও তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সংহতি জানাচ্ছে বিভিন্ন মহল
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই অনশনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রথমে রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে সংহতি জানান ভিপি সাদিক কায়েম। পরদিন দুপুরে সেখানে এসে সমর্থন জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
একই দিন রাত ১০টার দিকে সংহতি প্রকাশ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে কোনো মতভেদ থাকার সুযোগ নেই। জনগণ সংস্কার চেয়েছে, সেখানে বিশেষ কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে সেই রায় উপেক্ষা করা হলে তা মানুষ মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো একটি ফ্যাসিস্ট কাঠামো। এই কাঠামো পরিবর্তন না হলে যেই ক্ষমতায় আসুক, সে একই পথে হাঁটবে। শহীদরা এই পরিবর্তনের জন্যই রাজপথে নেমেছিলেন।
রাত ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান।
এছাড়া আজ শুক্রবার বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা অনশনস্থলে সমাবেশ করে সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার উপস্থিত ছিলেন।
অনশনকারীদের তিন দফা দাবি
অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—
১. গণভোট নিয়ে সব ধরনের অনিশ্চয়তা ও নাটকীয়তা বন্ধ করে গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন ও বাস্তবায়ন।
২. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন।
৩. গণভোটের বাইরেও জুলাই সনদে উল্লিখিত বিষয়সমূহ বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণা।
এফএআর/এমএমকে