সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়াতে ঢাবি-এসসিএসআইও সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অফ ওশেনোলজি’র (এসসিএসআইও) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) চীনের এসসিএসআইও-এর নানশা ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অফ ওশেনোলজি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক চাওলুন লি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্স (আইসিওজি) এবং সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অফ ওশেনোলজির স্টেট কি ল্যাবরেটরি অব ওশেনোগ্রাফির (এসকেএলটিও) যৌথ উদ্যোগে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এ চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অফ ওশেনোলজির অধীনস্থ স্টেট কি ল্যাবরেটরি অব ওশেনোগ্রাফির পরিচালক অধ্যাপক ইয়ান ডু।
এ সহযোগিতার লক্ষ্য হলো- সমুদ্র সঞ্চালন, জলবায়ু পরিবর্তনশীলতা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা এবং ব্লু ইকোনমি গভর্নেন্সের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম চালু করা। এ সহযোগিতা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্কের সূচনা করবে, যা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কে বৈশ্বিক বোঝাপড়ায় প্রভাবশালী গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থবহ অবদানের পথ প্রশস্ত করবে।
সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে চীন সফরে রয়েছে। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্সের (আইসিওজি) পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।
চীন সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ‘আকস্মিক পরিবর্তন ও সন্ধিক্ষণ’ শীর্ষক ১৩তম আন্তর্জাতিক ক্রান্তীয় সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন সম্মেলন (এমইসি) এবং ষষ্ঠ ক্লাইভার ক্লাইমেট ডাইনামিক্স প্যানেল (সিডিপি) বার্ষিক কর্মশালায় অংশ নেন।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম টেকসই অগ্রগতি অর্জনে সুপরিকল্পিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ব-দ্বীপীয় দেশের জন্য সমুদ্র-সম্পর্কিত গবেষণা অত্যন্ত জরুরি এবং এটি জাতীয় অগ্রাধিকার। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখার মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয় সাধনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভূ-ব্যবস্থা সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে কোনো কৃত্রিম সীমানা মানে না। বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাকে অবশ্যই আরও একীভূত ও আন্তঃশাস্ত্রীয় পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অফ ওশানোলজির সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়, বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ এবং দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, যা বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে।
এফএআর/এমকেআর