জকসু ক্রীড়া সম্পাদককে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে আক্রমণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবিব মোহাম্মদ ফারুক।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে থানায় জিডি করা হয়েছে।
হাবিব মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমরা জবি প্রশাসনকে জানাচ্ছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।
তিনি আরও বলেন, বিচার নিশ্চিত না হলে প্রশাসনকে এর দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে কেন্দ্র করে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে সাদিয়া সুলতানা নেলীকে একাধিকবার কল দিলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) ৮ম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে হল শাখা ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীর বিরুদ্ধে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সামনে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি বলেন, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলা করেছেন ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী। তিনি জকসু নির্বাচনে হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ছিলেন। থাপ্পড় মারার স্বীকারোক্তি তিনি নিজে ফেসবুকেও দিয়েছেন। জর্জিসকে ‘টুকরো টুকরো’ করে ফেলবেন এবং ‘পরে দেখে নেবেন’ বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। তার এমন আচরণ শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধ। জর্জিসের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই হেনস্থা ও হুমকির বিচার করতে হবে।
সাদিয়া সুলতানা নেলী ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জকসু নির্বাচনে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ছিলেন। তিনি জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের কর্মী বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি, সে যেই হোক এর বিচার আমরা করবোই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে কেউ হাত তুলবে, তা হতে দেবো না। এমন বিচার করা হবে, যেন কেউ আর এমন আচরণ করার সাহস না করে।
টিএইচকিউ/এএমএ