আফজাল নাছেরকে আরও ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ০৮ মে ২০২৬
আফজাল নাছেরকে আদালতে নেওয়ার সময় তোলা ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়নে অর্থ জোগান, নাশকতায় উসকানি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। আন্দোলনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস, এর পেছনের পরিকল্পনাকারী এবং অজ্ঞাত সহযোগীদের শনাক্ত করতেই নতুন করে এ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এ আবেদন জমা দেয়। এর আগে তিনদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল নাছের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ তিনটি কারণ বিশেষভাবে তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস ও ব্যয়ের খাত উদ্ঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আফজাল নাছের বিগত সরকারের ‘দোসর’ ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তার নির্দেশনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে ফের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ৫ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ এ আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে জবি শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস আহত হন। পরে তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় ২৫৩ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আফজাল নাছের ১৭ নম্বর আসামি।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এর আগে বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তাকে চতুর্থ দফায় তিনদিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

এমডিএএ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।