আইবিএর সমাবর্তন

শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাবি
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৫ মে ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন/ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানটি হয়।

সমাবর্তনে সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমস্যা মোকাবিলার সক্ষমতাই একজন মানুষকে পরিণত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইবিএ শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, দেশেরও অর্জন। নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেখানোর দায়িত্ব নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন এমন তরুণ নেতৃত্ব, যারা নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা মনোভাবের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুধু অর্থনীতিকে অনুসরণ করো না। সুযোগ তৈরি হয়ে আসার অপেক্ষায় থেকো না।’ তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাতের সীমাবদ্ধতাগুলোকে সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব খাতে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

আইবিএ পরিচালক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেই চলবে না, বরং সেই পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হলো পরিবর্তন আসবে কি না- তা নয়, প্রশ্ন হলো তোমরা সেই পরিবর্তনের কোন পাশে থাকবে।’

তরুণদের প্রতি উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না তোমরা শুধু ভালো নির্বাহী হও, আমি চাই তোমরা উদ্ভাবক হও। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

অধ্যাপক আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের শ্রম ও ত্যাগের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের এই উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাও শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে।

সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ- এই চারটি প্রোগ্রাম থেকে মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

এফএআর/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।