জাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে। বৃহস্পতিবার হয়রানির শিকার ৪২তম আবর্তনের ছাত্রী সাংবাদিকদের কাছে শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। বুধবার বিকেলে ক্যাম্পাসের বাসে করে ঢাকা যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন ওই ছাত্রী।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সজীব কুমার সাহা, নাটক ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মাজেদ সীমান্ত। অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম ব্যাচের ছাত্র।
যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী জানান, `বুধবার ফাইনাল পরীক্ষা শেষে আমি আমার বোনের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমরা দুই বোন বাসের পাশাপাশি সিটে বসি। এসময় এক ভাইয়া আমাদের পাশে এসে সিগারেট খাচ্ছিলেন। তখন আমার আপু সমস্যা হওয়াতে ওই ভাইকে দূরে গিয়ে সিগারেট খেতে বলেন। কিন্তু ৪০তম ব্যাচের সীমান্ত ভাই আমাদের সামনে এসে পুনরায় সিগারেট ধরান। তিনি আমাদের শুনিয়ে জোরে জোরে বলতে থাকেন, সামারটা অনেক হট, আশেপাশে অনেক হট। সিগারেট খাওয়া যাবে না, সিগারেট খাইলে কারাদণ্ড হবে।`
এসময় তিনি অনেকবার আমার আপুর গায়ের সঙ্গে ধাক্কা দেন। এরপরও সীমান্ত ভাই আমাদের উদ্দেশ্য করে আরো অনেক আজে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। একই সময় ৪০তম ব্যাচের টিটু ভাই আমাদের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকান। এরপর তিনি এসে আমাদের সামনে এসে বসেন এবং শরীর সম্পর্কীয় কুটুক্তি করেন। এসময় আমি ওনাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি আমাদের দিকে বাজেভাবে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। এরপর গুলিস্থানে নামলে তারা অনেকজন আমাকে ঘিরে দাঁড়ান। আমাকে বলেন, ‘তুমি পরিচিত তাই কিছু করলাম না, অন্য কেউ হলে অবস্থা খারাপ হতো। এসময় তারা আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে।
যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী বাসায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে পারেনি। তিনি বাসা থেকে ফিরে অভিযোগ দিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মাজেদ সীমান্ত বলেন, ‘ওই মেয়ে আমাদের ক্যাম্পাসের পরিচিত ছোট বোন। তার পাশে বসে সিগারেট খাওয়ায় তার বড় বোন আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।’
ছাত্রলীগ নেতা সজীব কুমার সাহা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি মেয়েটার পাশে ছিলাম। মেয়েটা ক্যাম্পাসে আসলে তার সাথে কথা বলবো।’ এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মহিতোষ রায় টিটুকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। মেয়েটি এখন বাসায় আছে। বাসা থেকে ফিরলে আমরা তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো।’
শিক্ষক মঞ্চের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘প্রশাসন সরকার দলীয় হওয়ায় ছাত্রলীগ এ ধরনের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে। সুষ্ঠু বিচার হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত পহেলা বৈশাখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম ব্যাচের এক আদিবাসী ছাত্রী।
এসএস/এমএস