কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার : বিকল শীতাতপ যন্ত্রে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ


প্রকাশিত: ০৩:০৯ এএম, ০৮ জুন ২০১৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) নষ্ট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে উপযুক্ত পড়াশোনার মনোযোগ ও পরিবেশ পাচ্ছেন না। তবে শিক্ষার্থীদের পাঠকক্ষের এসি বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে গ্রন্থাগার প্রশাসকের অফিস কক্ষের এসি। দীর্ঘদিন এসি বন্ধ রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, তিন তলাবিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মোট এসি রয়েছে ১৭টি। তবে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেই এসিগুলোর প্রায় বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এখন কম্পিউটার ল্যাব ও পত্রিকা কক্ষ ছাড়া আর কোথাও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কাজ করছে না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার গ্রন্থাগার প্রশাসককে বলেছেন।

দীর্ঘদিন পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে নষ্ট এসিগুলো ঠিক করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরকে চিঠি দেয় গ্রন্থাগার প্রশাসক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী। কিন্তু সেই চিঠি প্রায় একমাস প্রকৌশল দফতরে পড়ে থাকলেও ফান্ডে অর্থ সংকটের অজুহাতে এসি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে গত ৪ জুন বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য জানার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রকৌশল দফতরকে বলেন। তার হস্তক্ষেপের পর ৪ জুন থেকেই এসি ঠিক করার কাজ শুরু করে প্রকৌশল দফতর।

গ্রন্থাগারের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প বা হেকেপের ফান্ড থেকে তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য। সেই টাকা দিয়ে এরই মধ্যে গ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. গোলাম মোস্তফার অফিস কক্ষসহ বেশ কিছু কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে প্রচণ্ড গরমে গ্রন্থাগারে পড়াশোনা করলেও এসি ঠিক করার উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসক।

সরেজমিনে গ্রন্থাগারের দ্বিতীয় তলার পাঠকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল কক্ষ জুড়ে মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ বলেন, এ বছরে গরমের শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে গ্রন্থাগারের এসিগুলো। তাই  গরমের মধ্যে গ্রন্থাগারে আগের মতো আর পড়াশোনার পরিবেশ নেই। এসি নষ্ট থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আর গ্রন্থাগারে যাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

গ্রন্থাগার প্রশাসক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, হেকেপের টাকা গ্রন্থাগারের এসি ঠিক করার জন্য নয়। নষ্ট এসির বিষয়ে আমরা প্রকৌশল দফতরকে চিঠি দিয়েছি। তারা দেরিতে হলেও এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করার পরও প্রকৌশল দফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুম মুনীরকে পাওয়া যায়নি।

দফতরের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মির্জা মো. মোয়াতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রতি বছর গ্রন্থাগারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলোতে গ্যাস দেওয়াসহ বেশ কিছু কাজ করতে হয়। তবে এবার তহবিলে টাকা না থাকায় সেই কাজ করতে দেরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, অনেক দিন এসি বন্ধ থাকলেও আমাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পরে আমি শোনার সাথে সাথে প্রধান প্রকৌশলীকে ডেকে কাজ শুরু করতে বলেছি।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।