গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ইবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ইবিশিস) নির্বাচন কমিশন গঠন করার অভিযোগ ওঠেছে। রোববার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় অধ্যাপক ড. কে এম আব্দুস সুবহানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।

কমিশন আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তবে একটি পক্ষের মতামতকে উপেক্ষা করে ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এবং তার ১০ কার্যদিবস আগে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এছাড়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৭ এর ২ (খ) দফায় বলা হয়েছে, যদি ডিসেম্বরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে তবে ক্যাম্পাস খোলার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে পারেনি শিক্ষক সমিতি। গত ৬ ডিসেম্বর সাধারণ সভায় ক্যাম্পাস খুললে তবে নির্বাচন হবে এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৩ জানুয়ারি আবারও সভার আহ্বান করা হয়।

সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করার প্রস্তাব তোলা হয়। প্রস্তাবে সবাই ঐক্যমত্য পোষণ না করায় সভা মুলতবি করা হয়। সর্বশেষ আজ আবারো সভা ডেকে নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান জানান সভাপতি। এ সময় শিক্ষকদের একটি পক্ষ বন্ধ ক্যাম্পাসে কমিশন গঠন ও নির্বাচনী কার্যক্রম গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় তারা বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলার পরামর্শ দেন। এছাড়া সাধারণ সভা ডেকে বিষয়টি সমাধান করার প্রস্তাব করা হলেও তারা রাজি হননি। এ কারণে ৫ শিক্ষক পরিষদের সিদ্ধান্ত না মেনে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। তবে নোট অব ডিসেন্টের পরেও সভায় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন হলো নোট অব ডিসেন্টের পরেও। সমিতিকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যান্য শিক্ষকদের দাবিকে অগ্রাহ্য করে সভাপতির এমন আচরণ আমরা মোটেই কামনা করিনি।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কাজী আখতার হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় ডিসেম্বরে নির্বাচন হয়নি। তবে এখন বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, একাডেমিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সভা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কমিশন আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করবে।’

রায়হান মাহবুব/এমআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]