কুবিতে একাডেমিক ভবনের পাশে আবর্জনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০১:১১ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনসহ বেশ কয়েকটি ভবনের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ছাড়াও ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ ভবনের পাশে এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যকার সংযোগ সেতুর নিচে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা যেনো দেখার কেউ নেই।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন খান বলেন, প্রতিটি তলায় পর্যাপ্ত ময়লা ফেলার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সদিচ্ছার অভাবে যেখানে সেখানে ময়লা জমে রয়েছে। এ নিয়ে এর আগেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন অনুষদে কর্মরত কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব জায়গায় ময়লা ফেললে সামনে থেকে চোখে পড়ে না। তাই বিভাগগুলোর সামনে ডাস্টবিন থাকার পরও অনেকে সেখানেই ময়লা ফেলেন। আর এসব জায়গা গুলোতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যাতায়াত না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও তা পরিষ্কারে আগ্রহ বোধ করেন না।

কুবিতে একাডেমিক ভবনের পাশে আবর্জনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

অনুষদগুলোর ডিন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় আয়োজিত বিভাগগুলোর অনুষ্ঠানের অবশিষ্ট বর্জ্য, অফিসের অদরকারি অবশিষ্টাংশ অনুষদ ভবনের পেছনে এই ফাঁকা জায়গায় ফেলেই দায়িত্ব শেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, পরিষ্কারের দায়িত্ব মূলত এস্টেট শাখার। বারবার বলার পরেও খুব কম সময়ই তারা এগুলো পরিষ্কার করেন। আমাদের পক্ষ থেকে প্রায় সময়ই তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয় ভবনের পেছনের ময়লা পরিষ্কার করার ব্যাপারে।

কুবিতে একাডেমিক ভবনের পাশে আবর্জনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি আমদের কাজ না। আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙন পরিষ্কার রাখার কাজ করি। অনুষদগুলোর ক্ষেত্রে ডিন এবং হলগুলোর ক্ষেত্রে প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে লোক নিয়োগ দেওয়া আছে। লোকবল বেশি প্রয়োজন হলে আমরা সেভাবেই তাদের যোগান দেই।’

অথচ এর আগে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘গুচ্ছের পরীক্ষা শেষ হলেই আমরা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করবো।’ কিন্তু এখনও এর কোনো অগ্রগতি নেই।

কুবিতে একাডেমিক ভবনের পাশে আবর্জনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ডিন অফিসের অভিযোগ বিষয়ে মো. মিজানুর রহমান বলেন, অনুষদগুলোর ডিন অফিস থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা মোতাবেক তাদের অধীনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়েছি আমরা। ভবনের আশেপাশে বা পেছনে এসব আবর্জনা পরিষ্কার তাদেরই করার কথা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, বিষয়গুলো আমি সংশ্লিষ্ট এস্টেট অফিস ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।

ইউএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]