মেগাপ্রজেক্টে বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন স্থাপনা। একে একে দেখা মিলবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, সততা ফোয়ারা, মুক্ত বাংলা, ব্যতিক্রমী স্মৃতিসৌধসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

একটু ভেতরে প্রবেশ করতেই নজরে আসবে বিশাল কর্মযজ্ঞ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেরা বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যেনো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে নতুন রূপে। ২০১৮ সালে যে মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলো সেটি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এক কথায় বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একনেকে মেগাপ্রকল্পের অনুমোদন হয়। সেখানে পাঁচ শত ৩৭ কোটি টাকার পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা বদলে যাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের অধীনে নয়টি দশ তলা ভবন এবং ১৯টি ভবন সম্প্রসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের মধ্যে দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হোস্টেল একটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য একটি, কর্মচারীদের জন্য একটি, নির্মাণাধীন শেখ রাসেল হলের দ্বিতীয় ব্লক এবং নতুন প্রশাসন ভবন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া ১৯টি ভবনের সম্প্রসারণের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় প্রশাসন ভবন, মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ ভবন, রবীন্দ্র নজরুল দ্বিতীয় কলা অনুষদ ভবন, দ্বিতীয় ডরমেটরি, ড. ওয়াজেদ মিয়া দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন, মেডিকেল সেন্টার, প্রভোস্ট কোয়ার্টার, টিএসসিসি, ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচতলার নতুন ভবন ও পুরাতন ভবনের সম্প্রসারণ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্মাণাধীন ভবন অন্যতম।

আবাসিক সংকট নিরসন
ইতোমধ্যে একটি ছাত্র হল, একটি ছাত্রী হল, একাডেমিক ভবন, শেখ রাসেল হলের দ্বিতীয় ফেজ ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দশতলা বিশিষ্ট আবাসিক হলগুলো নির্মাণ শেষ হলে মোট ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হবে।

একাডেমিক শিক্ষা
দশতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি সংকট দূর হবে এবং অর্গানোগ্রামে উল্লেখিত বিভাগসমূহও চালু হবে। এছাড়া প্রশাসন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে অফিসসমূহ উন্নত হবে, শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান বাড়বে এবং স্থান সংকট দূর হবে।

গবেষণা উন্নয়ন
মেগা প্রজেক্টের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গবেষণাগারের যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব কার্যক্রম শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।

jagonews24

পানি সমস্যা দূরীকরণ
মেগা প্রজেক্টের আওতায় গভীর নলকূপ স্থাপন, রেইন ওয়াটার হারভেস্ট প্ল্যান্ট স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপেয় পানিসহ সব পানি সমস্যা দূর হবে।

বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান
দুটি ৫০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন, সোলার প্যানেল স্থাপনও এ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

আধুনিক ব্যায়ামাগার
বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে অবস্থিত ব্যায়ামাগারটি আরও উন্নয়ন করা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী। এর আওতায় বেশ কিছু নতুন যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হবে।

পর্যটন
বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক এলাকাসহ বেশ কিছু স্থানে নয়নাভিরাম স্থাপনা তৈরিসহ সংস্কার করা হবে। যার ফলে বাইরের পর্যটন আকর্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও বিনোদনের ব্যবস্থা হবে।

এছাড়া ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ক্যাম্পাসের নিচু ও ভবনগুলোর আশপাশের এলাকা মাটি ভরাট করা হবে। এসব প্রজেক্টের টেন্ডার প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুন্সি মোহাম্মদ তারেক বলেন, সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবকাজ সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু আরও কিছু সময় বেশি লাগতে পারে। এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া হবে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারাই পাল্টে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, প্রায় এক বছর আগে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আমি যখন দায়িত্ব নিই তখন এটি মুখ থুবড়ে পড়েছিলো। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ক্ষতিকর। পরে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আবারও কাজ শুরুর চেষ্টা করেছি।

আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]