৩৪ বছর বয়সেও ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের পদে!

ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি উম্মে রুম্মান রুমি

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে গত শুক্রবার। কমিটিতে বিবাহিত, অধিক বয়সী ও বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫ এর ‘ক’ ধারায় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৯ বছর উল্লেখ থাকলেও এসবের তোয়াক্কা না করেই ইডেন মহিলা কলেজ শাখায় সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন ৩৪ বছরের অধিক বয়সী উম্মে রুম্মান রুমি।

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মজিবর রহমান ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির মেয়ে রুমি। উপজেলা নির্বাচন অফিসের হালনাগাদ তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৯৮৭ সালের ১৬ নভেম্বর। সেই হিসাবে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার দিন তার বয়স হয় ৩৪ বছর ৫ মাস ২৭ দিন। এত বেশি বয়স নিয়েও কীভাবে ছাত্রলীগের পদ পেলেন এ নিয়ে প্রশ্ন অনেকেরই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, সম্মেলনের দিন কারও বয়স থাকলে (২৯ বছরের কম বয়সী হলে) সে পদে আসতে পারে।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্য আমলে নিলে সম্মেলনের দিন রুমির বয়স ছিল ৩১ বছর ৮ মাস ৮ দিন। সেই হিসাবে ছাত্রলীগে তার পদ পাওয়া গঠনতন্ত্রপরিপন্থি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি উম্মে রুমান রুমি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযোগ থাকতেই পারে। যখন কোনো কমিটি হয়, তখন কিছু অভিযোগ হয়েই থাকে। কিন্তু ঘটনাটা সত্য নয়।’

এই প্রতিবেদকের কাছে তার জন্মতারিখ নিশ্চিতের প্রমাণাদি আছে জানালে রুমি বলেন, ‘শুনেন ভাইয়া, আসলে কী বলবো। আসলে বলার কিছু নেই।’

rumi2

নিজের এই জন্মতারিখ ভুল প্রমাণ করতে পারবেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ভাইয়া আমি আপনাকে পরে কল দিচ্ছি।’

গত শুক্রবার (১৩ মে) ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিবাহিত, অধিক বয়সী ও বিতর্কিতরা পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ওইদিন রাতে ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এসময় নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে তালা দেন বিক্ষুব্ধরা। পরে ভোররাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য চাওয়ায় জাগো নিউজের সংবাদকর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন নতুন কমিটির সহ-সভাপতি সুস্মিতা বাড়ৈ। এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হওয়ার সময় এ বিষয়ে কথা বলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। জাগো নিউজকে তিনি জানান, ছাত্রলীগের কমিটিতে বিবাহিত অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]