শরীয়তপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিয়ে


প্রকাশিত: ০৪:৪৭ এএম, ২৬ জুন ২০১৬

চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে দিলো গ্রাম্য মাতুব্বররা। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের আজিজ কাজির কান্দি গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩৬ নং পশ্চিম কোদালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে গ্রাম্য মাতুব্বররা স্থানীয় বেপারী বাড়ির মসজিদের ইমাম হারুন খানের (২৫) সঙ্গে শনিবার সকালে বিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় মাতুব্বর সূর্য কাজী, মোস্তাফা বেপারী, সিরাজ বেপারী ও আবুল কাজী শনিবার সকাল ৯টার দিকে মোস্তাফা বেপারীর বাড়ির মসজিদের ইমাম হারুন খানকে নিয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় নজু কাজী তাদের সঙ্গে ছিল। তারা নিজ দায়িত্বে ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দেয়।

স্থানীয় সাব-কাজী পরিচয়ধারী নজরুল কাজী (নজু কাজী) বলেন, মেয়ের বয়সের প্রয়োজন নেই। মেয়ের মা-বাবা বলেছে মেয়ের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। তাই বিয়ে পড়িয়েছি।

৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজ বেপারী বলেন, নজরুল কাজী (নজু কাজি) এই বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছে। তবে নজু আমাদের ইউনিয়নের কাজী নয়। অভিযোগ আছে নজু কাজি ভুয়া কাগজে বিয়ে রেজিস্ট্রি করে।

মেয়ের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। এ অঞ্চলে কম বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিতে হয়, তা নাহলে সমস্যা হয়।

আলাওলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বেপারী বলেন, আমি তানিয়া আক্তারকে জন্মনিবন্ধন সনদে সাবালিকা ঘোষণা করিনি। তানিয়া নাবালিকা। ওর বিয়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি তো অনেক আগেই আমার ইউনিয়নকে বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা করেছি।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সগীর হোসেন বলেন, ব্যাপারটি আমি জানলাম। আমি এখন গোসাইরহাট থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলছি।

ছগির হোসেন/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।