রাজশাহীতে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে সোহেল রানা (৩৫) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার গ্রামের চরে এই ঘটনা ঘটেছে। সোহেল রানা ওই গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে।
এসময় গুলিতে সোহেল রানার স্ত্রী স্বাধীনা খাতুনও (৩০) আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক হুমাইরা খাতুন সোহেল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে গুলিতে আহত স্বাধীনা খাতুনকে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্তের পদ্মার চরের নিচ খানপুরের হবির চরের দক্ষিণে চৌদ্দ হাজার মাঠ এলাকার সংযোগস্থল পদ্মার চরে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি হয়। ওই ঘটনায় খানপুরের মিনহাজ মন্ডলে ছেলে আমান মন্ডল (৩৬) ও একই গ্রামের শুকুর মন্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩৩) নিহত হন। পরেরদিন ২৮ অক্টোবর হবিরচরে পদ্মা নদীর পাড় থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেন নামের আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের ধারণা, আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘কাকন বাহিনী’র লোকজন এসে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
নিহত সোহেল রানার স্ত্রী স্বাধীনা খাতুন বলেন, রাত সাড়ে ১২টার পর আমাদের বাড়ির বাহির থেকে টিনের বেড়ায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। কে জানতে চাইলে তারা প্রশাসনের লোক বলে ভাঙচুর করে ঘরে প্রবেশ করে ও এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এসময় আমার স্বামীকে কোম্বলের ভেতর লুকিয়ে রেখেও বাঁচাতে পারিনি। তাদের চিনতে পারিনি।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, আগের হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা সোহেল রানাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাখাওয়াত হোসেন/এফএ/জেআইএম