নির্বাচনের পরিবেশ আশাব্যঞ্জক: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ বেশ আশাব্যাঞ্জক মনে হচ্ছে। কারণ যারা কিছুদিন আগেও বলতেন এটা না হলে নির্বাচন হতে দেব না, সে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে ও নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। সেই দলগুলো এখন নির্বাচন প্রক্রিয়াতে নেমে পড়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গুটিকয়েক মহল এখনো এর বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা করছে ও তারা কিছু আন্দোলন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমি মনে করি না যে, তারা তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবাই নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু মহল এখনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও সেটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে গত এক বছরে দেশে ভয়ঙ্কর একটা কালচারের শুরু হয়েছে। যেটা হচ্ছে মব ভায়োলেন্স। মবোক্রেসি যেটা গণতন্ত্রকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে ও এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি আমরা চালু করতে পারি ও সুষ্ঠ নির্বাচন করতে পারি তাহলে।
পরে আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলেও এটি এখন কার্যত একটি কেয়ারটেকার সরকার থেকে পূর্ণাঙ্গ সরকারের রূপ নিয়েছে। এ সরকারের পেছনে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই, এমন কথা কেউ কেউ বললেও, তাদের যে সংস্কারমূলক উদ্যোগ ও সনদ বাস্তবায়নের কাজ তারা করেছে, সেজন্য অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।
দুয়েক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই পদটি শূন্য রয়েছে। তার শুন্যতা পূরণে তারেক রহমানকেই এই পদে বসানো হবে।
নির্বাচনের প্রচারণা শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো সিলেট থেকেই এবারও নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি।
তিনি বলেন, এ নির্বাচন শুধু আমাদের কাছে নয় জাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এই জাতি তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত হচ্ছে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচিত পার্লামেন্ট গঠন করা ও সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন করা, যারা দেশের সত্যিকারার্থেই একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন তার পথে এগিয়ে চলছে। সবার সহযোগিতায় কমিশন নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আগামীতে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ছিল খালেদা জিয়ার স্বপ্ন, সেটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের লন্ডনে বৈঠকের পর থেকেই বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এখনও সেই পথেই হাঁটছে।
কিছু কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মূলত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে। আমরা প্রায় ১০–১২টি আসনে এই ব্যবস্থা করেছি। কারণ কয়েকটি আসনে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স বা মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে শঙ্কা ছিল। সেই কারণে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে।
তারেক রহমানের সিলেট সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত বড় রাজনৈতিক দলগুলো সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে থাকে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও সিলেট থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন বলে আমরা আশা করছি।
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা নিজেরা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগ। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই যতটা সম্ভব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার। আমরা নির্বাচনের দিনেই গণভোট চেয়েছি ও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ওপরই গণভোট হবে। জনগণ সেখানে তাদের মতামত প্রকাশ করবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল ও খুলনা অঞ্চলে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এসব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এইটুকুই বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির নেত্রী নয়, তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের নেত্রী। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তার সমস্ত জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য যেন সংগ্রাম করা। সে সংগ্রাম তিনি করেছেন এবং সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। বেগম জিয়ার চলে যাওয়াটা হয়েছে একটা রাজকীয় চলে যাওয়া। এদেশের মানুষ যে তাকে কত ভালোবাসতো তার প্রমাণ আমরা দেখেছি। ৩০ তারিখে তার জানাজার মধ্য দিয়ে আমরা সেটা লক্ষ্য করেছি।
তিনি বলেন, আজকের এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। এই সময়টা আমাদের জাতির জীবনে একটা কান্তিকালের মত। আমরা যদি নির্বাচন করতে গণতন্ত্রে ফিরে যেতে না পারি জাতিগতভাবে আমরা ফেল করব। সুতরাং আমাদেরকে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমাদের কোন প্রভোকেশনে পা দেওয়া উচিত হবে না। আমাদের এমন কোন কাজ এমন কোন রাজনৈতিক কাজ করা ঠিক হবে না যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের এই উদ্দেশ্যকে ব্যহত করতে পারে।
আহমেদ জামিল/এমএন