ময়মনসিংহে দিপু হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া ইমাম গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫) ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি গত প্রায় ১৮ মাস যাবত ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, দিপু চন্দ্র দাস হত্যায় অন্যান্যদের সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতও নেতৃত্ব দেন। হত্যা সংগঠিত হওয়ার পর ইয়াছিন আরাফাত আত্মগোপনে চলে যান। ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি সুফফা নামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সংঘটিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, দিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ৯ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৮ জন আসামিকে এরই মধ্যে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়।

রাত ৯টার দিকে দিপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।

নিহত দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।