ডিঙ্গি নৌকাই যে গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের বাসিন্দারা একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ গ্রামের সদস্যদের মাদারীপুর শহরে আসার জন্য নৌকাই একমাত্র ভরসা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে কুমার নদে বিসিক শিল্প নগরীর পাশে একটি সেতু নির্মাণের দাবি করলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ গ্রামবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর গ্রামের পৌরসভার আওতাভুক্ত তিন হাজার মানুষ। তারা প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ব্যবসাসহ কোনো না কোনো কাজে মাদারীপুর শহরে আসতে হচ্ছে। কুমার নদে ছোট্ট নৌকায় প্রতিদিন হাজারও বেশি মানুষ পারাপার হয়। এই ডিঙ্গি নৌকায় তাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। তাই গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর দাবি তুললেও তা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। তবে অনেক সময় তাদের বিকল্প পথে দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে হয়। এতে তাদের সময় বেশি লাগে এবং যাতায়াতের জন্য বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হয়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার বলেন, আমি কুমার নদের ওপার বিসিক পার হয়ে মাদারীপুরের সামসুন্নাহার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করি। তাই প্রতিদিন ডিঙ্গি নৌকা পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। একবার এসে নৌকা না পেয়ে আধা ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। তাই এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

অভিভাবক মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমার নদ পারি দেয়। আমরা তাদের স্কুলে যাওয়া ও আসার সময় ভয়ে থাকি। বর্ষার সময় সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, আমি একটি কুরিয়ার অফিসে কাজ করি। প্রতিদিন এই নদ পার হয়ে শহরে যেতে হয়। শুধু আমরা সাধারণ মানুষ না, এই ডিঙ্গি নৌকা অসুস্থ রোগীদেরও একমাত্র ভরসা। অনেক সময় রোগীদের মাদারীপুরের সরকারি হাসপাতালে নিতেও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এতে করে রোগীর অনেক কষ্ট হয়।

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস বলেন, নতুন মাদারীপুর গ্রামের বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। একটি সেতুর অভাবে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব দিকে পিছিয়ে আছেন এইগ্রামের মানুষ। অথচ এই গ্রামটি শহরের খুব কাছেই।

মাদারীপুরের এলজিইড’র নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, বর্তমানে সেতু নির্মাণের জন্য কোনো প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন মাদারীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সুবিধার্থে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাছাড়া ব্যাপারটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে, যাতে দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।