ফরিদপুর

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দাওয়াত না দেওয়া নিয়ে ১৪ গ্রামের সংঘর্ষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩০ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুরে একটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের ১৪ গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আশপাশে হাজারো গ্রামবাসী অবস্থান নিলে মহাসড়কের উভয় পাশের প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাজারের অসংখ্য দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাটির কর্তৃপক্ষের দাবি, দুই মৌজার বাসিন্দাদের পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানকে ভন্ডুল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে ১০ গ্রামের মানুষ হামলা চালায়। তারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তিন ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা, পুখুরিয়া, মৃধাকান্দা ও নাজিরপুর গ্রামের সমন্বয়ে একটি মৌজায় অবস্থিত ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ অ্যাকাডেমি। শনিবার সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আবু জাহের ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম।

এ অনুষ্ঠানে পাশ্ববর্তী হামিরদি ইউনিয়নের ১০ গ্রাম নিয়ে গঠিত মহেশ্বরদি মৌজার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এতে মহেশ্বরদি মৌজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভেতরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরই জের ধরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে তামিম (১৫) নামে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে মেরে আহত করে কিছু বখাটে। এ খবর তামিমের এলাকা মানিকদাহ ইউনিয়নের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শতশত মানুষ সড়কে নেমে আসে। পাল্টা জবাবে মহেশ্বরদি মৌজার ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও সড়কের অপর প্রান্তে অবস্থান নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ২ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ অ্যাকাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবির জানান, দুই মৌজার ১৪ গ্রামবাসীর মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে ভন্ডুল করার জন্যই মহেশ্বরদি মৌজার লোকজন হামলা চালিয়েছে। তারা প্রথমে গেটের বাইরে গণ্ডগোল করে। এসময় গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিয়ে আসি ও অনুষ্ঠান স্থগিত করে ভেতরে অবস্থান করি। কিছু সময়ের মধ্যেই মহেশ্বরদি মৌজার হাজার হাজার মানুষ ঢাল-সরকি নিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকি। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে।

তিনি দাবি করেন, মহেশ্বরদি মৌজার লোকজন পুখরিয়া বাজারে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে বিপুল ক্ষতিসাধন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে অনেক চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অবরুদ্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পুলিশ তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এন কে বি নয়ন/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।