আমের মুকুলে আশা, ফলনে হতাশ চাষিরা

মনির হোসেন মাহিন মনির হোসেন মাহিন , বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ০৫ মে ২০২৬
পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষা করতে ওষুধ এস্প্রে করছেন চাষিরা/ ছবি: জাগো নিউজ

মৌসুমের শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের বাগানজুড়ে সোনালি মুকুলের সমারোহ দেখে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিলেন আম চাষিরা। সেই মুকুল যেন ভালো ফলনেরই বার্তা দিচ্ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে দৃশ্যপট। খরা, অনিয়মিত আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। ফলে মিলছে না প্রত্যাশিত ফলন। রাজশাহী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এই পরিস্থিতি চাষিদের স্বপ্নে বাধার পাশাপাশি তৈরি করেছে উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা।

মুকুল আসার আগ থেকেই চাষিরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকে সেচ দেওয়া, কীটনাশক প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি সবই করেছেন তারা। তারপরও প্রকৃতির প্রতিকূলতায় অনেক বাগানে আশানুরূপ ফলন আসেনি। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন বাগান মালিকরা। তবে এখনো গাছে যে পরিমাণ আম রয়েছে, তা যদি ভরা মৌসুমে ভালো দামে বিক্রি করা যায়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘ভালো মুকুল এসেছিলো। খরার কারণে আম টিকিয়ে রাখা যায়নি। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেব, বুঝতে পারছি না’

রাজশাহী পবা উপজেলার চাষি আব্দুর রহিম বলেন, ভালো মুকুল এসেছিলো। খরার কারণে টিকিয়ে রাখা যায়নি। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেব, বুঝতে পারছি না।

আমের মুকুলে আশা, ফলনে হতাশ চাষিরা

বিস্তীর্ণ আম বাগান/ ছবি: জাগো নিউজ

বাগমারা উপজেলার আমচাষি মতিউর রহমান জানান, শুরুতে বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও এখন গাছে অর্ধেকেরও কম আম রয়েছে। প্রতিদিনই আম ঝরে পড়ছে। সার, কীটনাশক, সেচ সবকিছুর খরচ বেড়েছে, কিন্তু ফলন কমে গেছে। এতে আমরা দিশেহারা।

সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহ শুরু, ভালো দামের আশা
আলু এখন ‘গলার কাঁটা’
উৎসবের মাসে বিষাদের ছায়া
দুর্যোগ-দরপতনে দিশাহারা কৃষক

গোদাগাড়ী উপজেলার চাষি আজমত আলী বলেন, আম বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু পানি সংকটের কারণে অনেক গাছে ঠিকমতো ফল ধরেনি। এখন যদি বাজারে ভালো দাম না পাই, তাহলে ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে যাবে।

`চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ১২ লাখ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা’

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ১২ লাখ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

আমের মুকুলে আশা, ফলনে হতাশ চাষিরা

গত কয়েক বছর ধরেই একের পর এক সংকটে পড়ছেন এ অঞ্চলের আমচাষিরা। খরা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমে দীর্ঘ ঈদ ছুটির কারণে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা সব মিলিয়ে লোকসানের চক্র থেকে বের হতে পারছেন না তারা। এবার লাভের আশা জাগলেও তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘মৌসুমের শুরুতে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল, তাতে ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মিলছে না। বাজারে সঠিক তদারকি না থাকলে কৃষক থেকে শুরু করে বাগান মালিক সবাই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে’

‘মনকে সান্ত্বনা দেই ফসল দিয়েছেন আল্লাহ, নিয়েছেনও তিনি’
১৯ শতাংশ জমির জন্য আটকে আছে সাড়ে ৮ কোটির সেতু নির্মাণ
বৃষ্টি-কৃষকের চোখের জলে একাকার হাওরের ধানের জমি
১৫ মোড়লের দাপটে ফিকে মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা-অভিযান

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, অপরিপক্ব আম যাতে আগেই সংগ্রহ না করা হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া হবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।

 

আমের মুকুলে আশা, ফলনে হতাশ চাষিরা

আম গাছে ওষুধ ছিটাচ্ছেন চাষি/ ছবি: জাগো নিউজ

তিনি জানান, আম সংরক্ষণের বিকল্প পদ্ধতি যেমন আমসত্ত্ব, চিপস, জ্যাম ও জেলি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘অপরিপক্ব আম যাতে আগেই সংগ্রহ না করা হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া হবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও কাজ চলছে’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাজারদর কমে গেলেও তারা বিকল্প উপায়ে লাভবান হতে পারবেন।

এনএইচআর/এএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।