পর্যটকের দেওয়া খাবারের জন্য অপেক্ষায় বানরের দল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১২:১১ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকে একটি বানরের দল অপেক্ষা করছে খাবারের জন্য। উদ্যানে পর্যটকের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। একই সঙ্গে উদ্যানের পাশের দোকানগুলো বন্ধ। এ বানরের দল মূল ফটকের সামনে সবসময় অবস্থান করায় বেশিরভাগ সময় পর্যটকেরা তাদের খাবার দিতেন। তাদের দেওয়া খাবার খেয়ে বন ঘুরে বেড়ায় এই দলটি। পর্যটক না থাকায় ও বনে খাবারের সংকট থাকায় ক্ষুধা নিয়ে মলিন হয়ে বসে আছে বানরগুলো।

বন বিভাগ বলছে, আসলে পর্যটকেরা বানরের দলকে সবসময় খাবার দেন। আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে সবসময় বানরকে খাবার না দেওয়ার জন্য বলেছি। বছরের এ সময়ে লতাপাতা কম থাকে, এজন্য খাবারের সংকট কিছুটা থাকে। তবে এখন বৃষ্টি হয়েছে, নতুন লতাপাতা গজাবে—প্রাণীরাও খেতে পারবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রমজান মাস থাকায় বনের ভেতর শুনশান নীরবতা। প্রাণীরা অবাধে চলাফেরা করছে। তবে মূল ফটকে একটি বানরের দল খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে। এ দলে বড় দুটি বানরের সঙ্গে কয়েকটি বাচ্চা বানর রয়েছে। ফটকের সামনে কয়েকজন পর্যটক ছবি তুলছেন, তাদের দিকে তাকিয়ে আছে দলটি। তবে এখন রোজার মাস থাকায় পর্যটকের কাছে খাবার নেই। বিষয়টি দেখে বানরের দলটি মলিন হয়ে বসে আছে টিকিট কাউন্টারের ওপর। পাশে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু দোকান রয়েছে উদ্যানে, তবে এ দোকানগুলো বন্ধ।

জাতীয় উদ্যানের কয়েকজন বনকর্মী বলেন, বানরের দল সবসময় সামনে থাকে। কেউ খাবার দিলে এগিয়ে নিয়ে আসে। কলা তাদের খুব প্রিয় খাবার। তবে রমজান মাসে তাদের খাবারের অনেক কষ্ট হয়েছে। কারণ তারা পর্যটকের খাবারের আশায় মূল ফটকের আশেপাশে সবসময় ঘোরাঘুরি করে।

হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক নামে এক পর্যটক বলেন, ঘুরতে এসেছি বনে। রমজানে বনের নীরবতা খুবই ভালো লাগে। বনে পর্যটক কম এলে বনের এ নীরবতা প্রাণীদের জন্য খুবই ভালো। বানরের দল আমার দিকে তাকিয়ে আছে খাবারের জন্য। তবে তাদের দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছুই নেই।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজি নাজমুল হক বলেন, বানরের একটি দল বেশিরভাগ সময় লাউয়াছড়া উদ্যানের মূল ফটকের আশপাশে থাকায় পর্যটকেরা খাবার দিয়ে থাকেন। এখন পর্যটক না থাকায় তারা খাবারের অপেক্ষা করে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে, নতুন লতাপাতা গজাবে। এছাড়া বিভিন্ন ফলগাছে মুকুল এসেছে, এখন বনে খাবারের সংকট থাকবে না।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এম ইসলাম/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।