মিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেক সুন্দরবন

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০১:৪৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বাইরে জেগে ওঠা চরের ভাঙন রোধ ও প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করতে ছোট ছোট খালের দুই ধারে বন বিভাগের উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে গোলপাতা লাগানো হয়েছে। দূর থেকে গোলপাতার এ বাগান দেখলে যে কেউ অবাক হবেন। মিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেকটি সুন্দরবন।

মিরসরাই উপকূলীয় রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বাঁধের বাহিরে বিশাল এলাকা জুড়ে নতুন চর জেগে উঠেছে। নতুন জেগে ওঠা চরের ভাঙন রোধ ও প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি এবং নতুন চর জাগাতে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে উপজেলার ডোমখালী, মঘাদিয়া ও বামনসুন্দর বিট এলাকায় ৮২০ হেক্টর বিরান চরে বনায়ন করা হয়। বনবিভাগের সুফল প্রকল্পের আওতায় এ বনায়ন করা হয়। দুই বছর আগে করা বনায়নের সময় কেওড়া ও বাইন গাছের চারার পাশাপাশি ইছাখালী বিট ও বামন সুন্দর বিটের অংশে থাকা চরাঞ্চলের চারটি শাখা খালের দুই পাড়ে ১০ কিলোমিটার জুড়ে গোলপাতার বীজ ও চারা লাগানো হয়। সুন্দরবন এলাকা থেকে গোলপাতার ২০ হাজার বীজ ও বরিশাল এলাকা থেকে ১০ হাজার গোলপতার চারা আনা হয়। তবে চারাগুলোর শিকড় সংক্রমণে নষ্ট হয়ে গেলেও বীজগুলো থেকে চারা গজায়। এরপর ঘূর্ণিঝড়, বন্যার আক্রমণ ও মহিষের বাথানের বিচরণের কারণে কিছু চারা গাছ নষ্ট হলেও এখনো দশ হাজারের বেশি গাছ টিকে আছে।

মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে উত্তরে ইছাখালি ও দক্ষিণে ডাবর খালি খালের মাথায় গিয়ে দেখা গেছে, সমুদ্র উপকূলের খাল দুটির চারটি শাখা খালের দুই পাড়ে অন্তত ৩ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তৈরি হচ্ছে গোলপাতা বন। দূর থেকে দেখে নারকেল চারার মতো মনে হওয়া গোল গাছগুলোর উচ্চতা এখন ৬-৭ ফুটের মতো। বাতাসের সঙ্গে গাছের পাতাগুলো এদিক ওদিক দোল খাচ্ছে। খালগুলোতে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হওয়ায় উর্বর পলি মাটিতে তর তর করে বাড়ছে গাছগুলো।

উইকিপিডিয়া তথ্যমতে , গোলপাতার ইংরেজি নাম (Nzpl fruticans)। এ গাছ সুন্দরবনের স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত অঞ্চলে জন্মে। এর পাতা প্রায় ৩ থেকে ৯ মিটার লম্বা হয়। এছাড়া ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসগর অঞ্চলের উপকূলীয় এবং মোহনা এলাকার এক প্রকার পাম জাতীয় উদ্ভিদ এটি। যাদেরকে ‘নিপা পাম’ নামেও ডাকা হয়।

গোল নয় কিন্তু নাম কেন গোলপাতা

‘গোলাপাতা’ গাছের নাম হলেও এ গাছের পাতা কিন্তু গোল নয়। এ গাছের ফলগুলো যখন পূর্ণ বয়স্ক হয় তখন কাঁদিটাকে প্রায় গোলাকার দেখায়। তাই গোলপাতা গাছ নামে ডাকা হলেও এ গাছের নাম গোল গাছ।

মিরসরাই উপকূলে গোলপাতার বাগান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে কৌতুহল।

সাহেরখালী ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম নামে একজন বলেন, গোলপাতার কথা আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি। সুন্দরবন এলাকায় গোলপাতা ব্যবহার করে ঘরের ছাউনি দিত। সুন্দরবনের গোলপাতার বাগান কখনো দেখা হয়নি। এখন আমাদের মিরসরাই উপকূলে গোলপাতার বাগান তৈরি হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে।

ডোমখালী এলাকার প্রাণহরি জলদাস বলেন, নারিকেল গাছের মতো দেখতে এ গাছগুলোকে স্থানীয় মানুষ প্রথ দিকে চিনতে পারেনি। এখন সবাই জানে এটি গোলপাতা গাছ। গাছগুলোর কারণে খালের দুই পাড়ে পাখিদের আনাগোনা অনেকটা বেড়েছে।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই উপকূলীয় রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহান শাহ নওশাদ মিরসরাই উপকূলে গোলপাতার বাগান সম্পর্কে বলেন, খালপাড়ের মাটি টেকসই করে ভাঙন রোধ করতে এবং উপকূলীয় এলাকায় জীব বৈচিত্র বাড়াতে সুফল প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে গোলপাতার বনায়ন করা হয়। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখানে এখন গোলপাতার বন তৈরি হচ্ছে। সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাইরে দেশে গোলপাতার বন সম্প্রসারণ চমৎকার একটি উদাহরণ।

এম মাঈন উদ্দিন/এফএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।