লাউয়াছড়ায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন সকাল থেকেই স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জাতীয় উদ্যানটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ একমাস প্রায় পর্যটক শূন্য থাকলেও মানুষের পদচারণায় আবার মুখরিত হয়ে উঠেছে উদ্যান। অনেকেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধদের নিয়ে এসেছেন। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পথ আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝে সময় কাটাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনক দেববর্মা জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো। আশপাশের রিসোর্ট, হোটেল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভালো বেচাবিক্রির আশা করছেন।

লাউয়াছড়ার পাশাপাশি কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ এবং চা বাগানগুলোতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে।
বন বিভাগ ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জন এবং বনের নীরবতা বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার প্রজাতির উভচর, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এম ইসলাম/এসআর/এমএস